হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published মে ১৯, ২০২৬

চট্টগ্রামে হামে শিশু মৃত্যুর মিছিল: হাসপাতালের করিডোরজুড়ে স্বজনের আর্তনাদ

By স্টাফ রিপোর্টার

1cc8be99-d607-417b-a417-68a84b6baca4

“ভেতরে আসেন, আপনার বাচ্চা আর নেই…”

মাত্র একটি বাক্য। অথচ এই কয়েকটি শব্দই মুহূর্তে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে এক অসহায় বাবার সমস্ত পৃথিবী। হাসপাতালের করিডোরে শেষ আশাটুকু আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকা সেই বাবা হয়তো তখনও বিশ্বাস করতে চাইছিলেন— তার সন্তান ফিরে আসবে। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে নিথর ছোট্ট দেহ।

চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু যেন থামছেই না। একের পর এক পরিবার হারাচ্ছে তাদের প্রিয় সন্তানকে। হাসপাতালের বেডে জায়গা নেই, অক্সিজেনের জন্য ছোটাছুটি, চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা— সব মিলিয়ে আতঙ্ক আর হতাশায় দিন কাটছে অভিভাবকদের।

স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো অনেক শিশুকেই বাঁচানো সম্ভব ছিল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সংকট ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাবে আজ অনেক পরিবার শোকের ভার বইছে।

এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়— এটি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি। যে শিশুরা একটু যত্ন, সময়মতো টিকা ও সঠিক চিকিৎসা পেলে নতুন সকাল দেখতে পারতো, তারাই আজ নীরব কবরের অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল বৃদ্ধি করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার নিশ্চয়তা কোথায়?কেন এখনো অসহায় বাবা-মাকে সন্তানের নিথর দেহ বুকে নিয়ে হাসপাতাল ছাড়তে হয়?

একটি শিশুর মৃত্যুও কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্য গভীর লজ্জার বিষয়। আর যখন একের পর এক নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে পড়ে, তখন নীরবতা আর উদাসীনতাও অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়।

চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোর করিডোরে আজ শুধু কান্নার শব্দ নয়, প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একটি জাতির বিবেকের প্রশ্ন—আর কত শিশু হারালে আমরা জাগবো?