মিরপুর কালশি বস্তিতে ভয়াবহ আগুন মুহূর্তেই পুড়ে ছাই শত শত ঘর, ঈদের আগে পথে বসার শঙ্কায় অসহায় মানুষ।
By স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা, ২৫ মে ২০২৬
ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের কালশি বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি। আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তের মধ্যেই ছারখার হয়ে যায় বহু পরিবারের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্ন, সঞ্চয় ও জীবনের সম্বল। ঈদকে সামনে রেখে নতুন কাপড়, জমানো টাকা, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়ে এখন দিশেহারা বস্তিবাসী।
সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরের কালশি বাউনিয়াবাদ বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট। পরে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়লে মোট ১৩টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক বেগ পেতে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর মুহূর্তেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘর থেকে কিছু বের করার সুযোগ পাননি। শিশুদের কোলে নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করতে দেখা যায় নারী-পুরুষকে। কেউ হারিয়েছেন ঈদের জন্য জমানো টাকা, কেউবা সন্তানদের নতুন পোশাক ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আগুনের সময় বস্তির ভেতরে মানুষের চিৎকার আর কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজেদের পুড়ে যাওয়া ঘরের দিকে তাকিয়ে আহাজারি করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। এখন পর্যন্ত হতাহতের নির্দিষ্ট তথ্যও প্রকাশ করেনি ফায়ার সার্ভিস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, গ্যাসের অব্যবস্থাপনা এবং সংকীর্ণ বসতি অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।
এদিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপনের শঙ্কায় রয়েছেন। সামনে ঈদ, অথচ তাদের ঘরে নেই খাবার, কাপড় কিংবা মাথা গোঁজার ঠাঁই।
কালশি বস্তির পোড়া ধ্বংসস্তূপ যেন এক রাতেই কেড়ে নিয়েছে অসংখ্য মানুষের সুখ, শান্তি আর ঈদের আনন্দ।