হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ১০, ২০২৬

খামেনির দাফন শেষ হতেই ইরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, হামলার দায় অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক | আন্তর্জাতিক

4cb781ad-1e91-4310-8784-a8a66ff9cb31

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির অভ্যন্তরে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে এই রহস্যময় হামলার পেছনে নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন।শুক্রবার (১০ জুলাই ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধের শুরুতে নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে সম্পন্ন হয়।

দাফন অনুষ্ঠান শেষে জনসমাগম কমার পরপরই দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এই শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য জানা না গেলেও এটিকে একটি পরিকল্পিত হামলা বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনের হাত নেই, দাবি পেন্টাগনের

খামেনির দাফন পরবর্তী এই বিস্ফোরণের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহের তীর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। বিশেষ করে গত দুই রাতে মার্কিন সেন্টকম (CENTCOM) কর্তৃক ইরানের ১৭০টিরও বেশি স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলার ঘটনার পরপরই এই বিস্ফোরণ নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

তবে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ্যে আসার পরপরই ওয়াশিংটন এক বিবৃতিতে এই হামলায় তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্দিষ্ট হামলার সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো সম্পর্ক নেই।

যুদ্ধবিরতি ভেঙে চরম সংঘাত

গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে হওয়া ৬০ দিনের ‘সমঝোতা স্মারক’ বা যুদ্ধবিরতি চুক্তি শেষ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এরপরই দুই দেশ সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে ইরানও বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ৮৫টি পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

নেপথ্যে কি ইসরায়েল?

যুক্তরাষ্ট্র দায় অস্বীকার করায় আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ইসরায়েল। লেবাননে সামরিক পদক্ষেপ এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগে থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

এছাড়া সম্প্রতি ট্রাম্পকে হত্যার লক্ষ্যে ইরানের ‘হিটলিস্ট’ তৈরির ব্যাপারেও ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছিলেন। ফলে খামেনির দাফনের পরপরই হওয়া এই রহস্যময় বিস্ফোরণের পেছনে তেল আবিবের কোনো ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’ রয়েছে কি না, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।চরম উত্তেজনার এই সময়ে আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরের কথা রয়েছে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর এই সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।