হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ৯, ২০২৬

‘দুই দেশের সরকারপ্রধান বসলেই অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব’: ত্রিবেদীর বার্তায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক মেরামতের ইঙ্গিত

By বিশেষ প্রতিবেদন | বেঙ্গল টাইমস, ঢাকা | ৯ আগস্ট ২০২৬

IMG_8839

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমিয়ে আবারও পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার জায়গায় ফিরতে রাজনৈতিক পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

রোববার রাজধানীর কুড়িলে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) শিশুদের জন্য নির্মিত একটি খেলাঘর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারপ্রধান একসঙ্গে বসলে বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সম্ভাব্য সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ত্রিবেদী দুই দেশের নেতৃত্বকে জনবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, বিদ্যমান সংকটগুলো ইতিবাচকভাবে সমাধানের বিষয়ে তিনি আশাবাদী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে নেতিবাচকতার পরিবর্তে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিক ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এখন প্রয়োজন সরকার পর্যায়ের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা। জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্মানকে ভিত্তি করেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব বলে তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।ত্রিবেদীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পালাবদলের পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক গত দুই বছরে একাধিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে ২০২৬ সালে দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে উপলব্ধি করছে বলে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

৫ আগস্ট ২০২৪: যে দিন বদলে যায় ঢাকা-দিল্লির সমীকরণ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের সবচেয়ে বড় বাঁক আসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। ওই দিন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর ভারত চলে যান। এর মধ্য দিয়ে প্রায় দেড় দশক ধরে নয়াদিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা বাংলাদেশের একটি সরকারের পতন ঘটে এবং দেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়।

শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক ছিল। ফলে ঢাকার ক্ষমতার পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় ছিল না; এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে।

ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নতুন বাস্তবতা ছিল—শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ভিত্তি তখনও পুরোপুরি স্পষ্ট ছিল না।

ফলে ৫ আগস্টের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে আস্থার সংকট ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হতে শুরু করে।

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান: সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু

ঢাকা-দিল্লির বর্তমান সম্পর্কের অন্যতম জটিল বিষয় হয়ে ওঠে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছে। ভারত এ বিষয়ে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিষয়টি সামনে রেখেছে।

একই সময়ে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহও দেখিয়েছে, বিষয়টি এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল। আগস্টের শুরুতে নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল বক্তব্য ঘিরে বাংলাদেশ আপত্তি জানায় এবং ভারতকে তার অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানায়। 

ভারত পাল্টা জানায়, ওই ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের আয়োজনে তাদের সম্পৃক্ততা নেই এবং সেখানে প্রকাশিত কোনো বক্তব্যকে ভারত সরকারের অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়। 

অর্থাৎ, সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার মধ্যেও শেখ হাসিনা ইস্যুটি এখনো ঢাকা-দিল্লির মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা হিসেবে রয়ে গেছে।

কেন বাংলাদেশে ভারত সম্পর্কে অসন্তোষ বাড়ল?

৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—ভারতকে শেখ হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখার প্রবণতা এবং শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পরও তাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সীমান্তে প্রাণহানি, বাণিজ্যিক বাধা, পানি বণ্টনসহ পুরোনো অমীমাংসিত ইস্যু এবং দুই দেশের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।

তবে পুরো সম্পর্কের অবনতিকে কেবল একটি কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারও বদলাতে শুরু করে।

সীমান্তে উত্তেজনা: পুরোনো ক্ষত নতুন করে আলোচনায়

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের দীর্ঘদিনের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু।

সীমান্ত হত্যা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দুই দেশ বহুবার দিয়েছে। 

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে BGB ও BSF-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছিল। 

পরবর্তী সময়েও সীমান্তে হত্যা, ‘পুশ-ইন’, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকে। ২০২৬ সালের জুনের BGB-BSF বৈঠকেও বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও পুশ-ইন বন্ধের দাবি তোলে। 

এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের জনমনে ভারতের প্রতি অসন্তোষ বাড়ানোর অন্যতম কারণ।

একই সময়ে ভারতও সীমান্তে চোরাচালান, অনুপ্রবেশ এবং নিজেদের নাগরিক ও সীমান্তরক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ফলে সীমান্ত এখন দুই দেশের সম্পর্কের একটি স্থায়ী চাপের জায়গা।

বাণিজ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন চাপ

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও পরিবর্তন এসেছে।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারত বাংলাদেশি পণ্যের তৃতীয় দেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে যে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা ছিল, সেটি প্রত্যাহার করে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল—এই ব্যবস্থার ফলে তাদের বন্দর ও বিমানবন্দরে চাপ এবং লজিস্টিক জটিলতা তৈরি হচ্ছিল।

এরপর ২০২৫ সালের মে ও জুনে ভারত বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করে। সরকারি নথিতে নির্দিষ্ট পণ্যের আমদানি স্থলবন্দর দিয়ে সীমিত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশের দৃষ্টিতে এসব পদক্ষেপকে রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখা হয়েছে। ভারতের দৃষ্টিতে আবার এগুলোকে বাণিজ্য ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক বাণিজ্যিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ফলে একই সিদ্ধান্ত দুই দেশের রাজনৈতিক বয়ানে দুই ধরনের অর্থ বহন করেছে—এটিও সম্পর্কের আস্থার সংকটকে আরও গভীর করেছে।

ঢাকার ‘বহুমুখী’ পররাষ্ট্রনীতি ও দিল্লির কৌশলগত উদ্বেগ

শেখ হাসিনা সরকারের সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ছিল তুলনামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ।

 কিন্তু ২০২৪-এর পর ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন ভারসাম্যের সন্ধান দেখা যায়।

চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগ বাড়ানো, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করা এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে নতুনভাবে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নয়াদিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয় হয়ে ওঠে।ভারতের কাছে বাংলাদেশ শুধু প্রতিবেশী নয়; এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা, যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বঙ্গোপসাগরীয় ভূরাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

ফলে ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন হলে তার প্রভাব ভারতের নিরাপত্তা হিসাবেও পড়ে।অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্যও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ—বাণিজ্য, সীমান্ত, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং আঞ্চলিক সংযোগের কারণে।

ফলে দূরত্ব তৈরি হলেও দুই দেশের কেউই দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতে পারে না।

পানি বণ্টন ও পুরোনো অমীমাংসিত প্রশ্ন

তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, গঙ্গার পানি চুক্তির ভবিষ্যৎ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনা—এসব বিষয়ও সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি এজেন্ডায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সম্পর্ক ভালো থাকলেও এসব ইস্যু পুরোপুরি সমাধান হয়নি। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্ক দুর্বল হওয়ার পর পুরোনো অমীমাংসিত বিষয়গুলো নতুন করে জনআলোচনায় এসেছে।

বিশেষ করে তিস্তা ইস্যু বাংলাদেশের জনমনে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত। একইভাবে ভারতও অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় তার নিজস্ব রাজ্যগুলোর স্বার্থ, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিষয় বিবেচনা করে।

এই জটিল অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সমীকরণের কারণে পানি প্রশ্নের দ্রুত সমাধান হয়নি।

তবে সম্পর্ক কি সত্যিই ‘ভেঙে পড়েছে’?

সব টানাপোড়েন সত্ত্বেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন সম্পর্ক বলা যাবে না।

দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে, বাণিজ্য ও যোগাযোগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে এবং উভয় পক্ষই একাধিকবার সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

২০২৫ সালের আগস্টে BGB-BSF বৈঠকে দুই দেশ সীমান্ত হত্যা, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়।

২০২৬ সালে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগও তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি জুনে ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন এমন সময়ে, যখন দুই দেশই দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং বাংলা ভাষা ও পশ্চিমবঙ্গের বিষয়ে তার পরিচিতিকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন পর্বে একটি বিশেষ কূটনৈতিক সম্পদ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

‘সরকারপ্রধানরা বসলে’ কেন সমাধানের সম্ভাবনা বেশি?

দুই দেশের সম্পর্কের যেসব সমস্যা এখন জমে আছে, তার অনেকগুলোই কেবল আমলাতান্ত্রিক পর্যায়ে সমাধান করা কঠিন।

শেখ হাসিনা ইস্যু, সীমান্তে প্রাণহানি, পানি, বাণিজ্য, ভিসা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জড়িত।

এই কারণেই ত্রিবেদীর ‘দুই দেশের সরকারপ্রধান একসঙ্গে বসলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব’—এই বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • এর অর্থ হতে পারে, দিল্লি এখন সম্পর্ককে শুধু নিরাপত্তা বা সীমান্তের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে নতুনভাবে সাজাতে আগ্রহী।
  • সামনে কী হতে পারে?
  • বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বাস্তবতা অনেকটা এমন—ভূগোল দুই দেশকে কাছাকাছি রেখেছে, কিন্তু রাজনীতি তাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
  • দুই দেশের মধ্যে ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত, গভীর অর্থনৈতিক যোগাযোগ, অভিন্ন নদী, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং মানুষের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন দীর্ঘস্থায়ী হলে তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক মূল্য দুই দেশকেই দিতে হয়।
  • বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে—শেখ হাসিনা ইস্যুতে রাজনৈতিক ও আইনি সংলাপ, সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধ, বাণিজ্যিক বাধা কমানো, পানি প্রশ্নে বাস্তব অগ্রগতি, ভিসা ও মানুষের যাতায়াত সহজ করা এবং পারস্পরিক আস্থাহীনতা কমাতে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ।
  • দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য সেই সম্ভাবনার দরজাই নতুন করে খুলেছে।
  • শেষ পর্যন্ত ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা শুধু দুই দেশের সরকারের ওপর নির্ভর করবে না; বরং নির্ভর করবে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্বের প্রতি সংবেদনশীলতা, জনগণের স্বার্থ এবং বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধানের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।
  • দুই দেশের সরকারপ্রধান যদি সত্যিই সরাসরি আলোচনায় বসতে পারেন, তাহলে গত দুই বছরে জমে থাকা অবিশ্বাসের বরফ গলানোর একটি নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে সেই আলোচনার সাফল্য নির্ভর করবে প্রতীকী সৌজন্যের চেয়ে বাস্তব সমস্যাগুলো কতটা দ্রুত ও ন্যায্যভাবে সমাধান করা যায় তার ওপর।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে রাজনৈতিক আস্থার সংকট কতটা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যায় তার ওপর।

দুই দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বন্ধনকে কাজে লাগিয়ে কূটনৈতিক দূরত্ব কমানোর সুযোগ এখনও রয়েছে।

সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধ, বাণিজ্যিক বাধা দূরীকরণ এবং অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা সম্পর্ক পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে বহুমুখী ভারসাম্য এবং দিল্লির নিরাপত্তাগত উদ্বেগ—দুই পক্ষকেই এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

 শুধু উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নয়, জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে দৃশ্যমান ও বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে পারলেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নতুন এক ইতিবাচক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারে।

 পরিবর্তিত আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে দুই দেশের সহযোগিতা শুধু দ্বিপক্ষীয় স্বার্থেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

 তাই অতীতের বিরোধকে পাশে রেখে নতুন বাস্তবতায় পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ খুঁজে বের করাই এখন সময়ের দাবি।