কুমিল্লায় মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজের সূত্রে অভিযুক্ত আটক
By স্টাফ রিপোর্টার | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশ: ৫ জুলাই, ২০২৬
কুমিল্লা: কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক জনমতের সৃষ্টি হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে পার্শ্ববর্তী বরুড়া উপজেলা থেকে অভিযুক্তকে আটক করে।
আটক ব্যক্তির নাম খোকন, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘ল্যাংড়া খোকন’ নামে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তিনি এলাকায় জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয়ভাবে তাঁকে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত বলা হলেও দলের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে তিনি নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বিজয়পুর বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী মধ্যবয়সী মানসিক ভারসাম্যহীন নারী বাজারের একটি দোকানের সামনে ফুটপাতে ঘুমিয়ে ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভোর আনুমানিক ৪টা ৮ মিনিটে এক ব্যক্তি ঘুমন্ত নারীর ওপর হামলে পড়ে। ফুটেজে ভুক্তভোগীকে প্রতিরোধের চেষ্টা করতে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে বাজারের এক পাহারাদার ঘটনাস্থলে এসে ওই নারীকে দেখতে পান।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযুক্তকে শনাক্তে অভিযান শুরু করে।
প্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে রাত প্রায় ৯টার দিকে বরুড়া উপজেলার ঝলম এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনার মধ্যে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা বেঙ্গল টাইমসকে বলেন, খোকন দলের কোনো পদধারী নেতা নন; তিনি সাধারণ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বলেন, “অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় হতে পারে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আমরা সহযোগিতা করব। পাশাপাশি সাংগঠনিক বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এদিকে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।