ঘুমধুম সীমান্তে আবারও মাইন বিস্ফোরণ, যুবকের গোড়ালি উড়ে গেছে
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক, বান্দরবান | ২৪ জুন ২০২৬
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় মো. শফি (৩৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে তাঁর ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বাম পায়ের হাঁটুর হাড় ভেঙে যায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী এলাকার বাসিন্দা মো. শফি সীমান্তসংলগ্ন একটি বাগানে কলার ছড়া কাটতে গেলে হঠাৎ একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন আতঙ্কে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। পরে ফিরে এসে তাঁকে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজারের কুতুপালং এলাকায় অবস্থিত একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত শফি রেজু আমতলী এলাকার বাসিন্দা এবং কালু মিয়ার ছেলে। সীমান্তঘেঁষা দুর্গম এই এলাকা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, ঘটনাটি ঘটেছে রেজু আমতলীর ৪১ নম্বর সীমান্ত পিলারের পশ্চিমে, শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ
ঘুমধুম সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মাইন ও বিস্ফোরকসংক্রান্ত দুর্ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
গত ২৪ মে একই এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন। পরে ৯ জুন আরও একজন কৃষক মাইন বিস্ফোরণে প্রাণ হারান। এছাড়া ২ জুন সীমান্ত এলাকায় পাওয়া একটি পরিত্যক্ত মর্টারশেল নিয়ে খেলতে গিয়ে বিস্ফোরণে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে
নিরাপত্তা জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিতকরণ এবং সম্ভাব্য মাইন অপসারণে দ্রুত
কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় সীমান্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।