তুরাগের ঘটনা’ ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ জয়ের, পুলিশের দাবি—গুজব ভিত্তিহীন
By নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর তুরাগ এলাকায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর নিখোঁজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাশ উদ্ধারের গুঞ্জনের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেছেন, ‘তুরাগের ঘটনা’ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জয় অভিযোগ করেন, গোপন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তুরাগ নদীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীদের হত্যার ঘটনায় একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তুরাগ থানায় অবস্থান করছেন এবং উদ্ধার হওয়া তিনজনের মৃত্যুকে ‘অপমৃত্যু’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে।
জয়ের দাবি, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং নিহতদের পরিবারকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করা হতে পারে।
তবে জয়ের এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘তুরাগ নদীতে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ ভাসছে’—এ ধরনের প্রচারণাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাঁর থানায় কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা বাহিনীর সদস্য এ ধরনের বিষয়ে আসেননি। তিনি আরও জানান, গত দুই সপ্তাহে একটি আত্মহত্যার ঘটনা ছাড়া অন্য কোনো মৃত্যুর ঘটনা থানায় রেকর্ড হয়নি এবং তুরাগ এলাকায় কোনো লাশ উদ্ধারের তথ্যও তাদের কাছে নেই।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুন তুরাগ এলাকায় আওয়ামী লীগের একটি মিছিলের পর কয়েকজন নেতাকর্মী নিখোঁজ হয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তিনজনের লাশ উদ্ধার হয়েছে—এমন দাবিও বিভিন্ন পোস্টে প্রচারিত হয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লাশ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে এখনো কোনো স্বাধীন তদন্ত বা সরকারি অনুসন্ধানের ফল প্রকাশিত হয়নি।