ট্রাম্প–সৌদি যুবরাজ সম্পর্কে কি দূরত্ব বাড়ছে? ইরান ইস্যুতে নতুন সমীকরণ
By অন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান-এর মধ্যে ইরান প্রশ্নে দৃষ্টিভঙ্গির কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর সৌদি আরব সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে রিয়াদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রাখলেও অন্যদিকে আঞ্চলিক কূটনৈতিক যোগাযোগও বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালে সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার পর নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী সময়ের আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহ সৌদি নেতৃত্বকে নিজেদের নিরাপত্তা কৌশল আরও বৈচিত্র্যময় করার দিকে উৎসাহিত করেছে।করেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। একই সঙ্গে চীনের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, বিনিয়োগ এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের সম্পর্ক এখনো বহাল রয়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কে মতপার্থক্য দেখা দিলেও ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব ভেঙে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতায় রিয়াদ ও ওয়াশিংটন উভয়ই নিজেদের কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছে। এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে কোন দিকে নিয়ে যাবে, তা নির্ভর করবে ইরান ইস্যু, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর।