সবুজ বিপ্লবের পথে ভারত: জিন্দ-সোনিপত রুটে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের সূচনা মোদির
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬
পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল ভারত। আজ হরিয়ানার জিন্দ এবং সোনিপতের মধ্যে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন-চালিত প্যাসেঞ্জার ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের ‘গ্রিন মোবিলিটি’ বা পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থার লক্ষ্যমাত্রায় এটি অন্যতম বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হাইড্রোজেন ট্রেনের বৈশিষ্ট্য:
প্রথাগত ডিজেল ইঞ্জিনের পরিবর্তে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ট্রেন চলাচল করবে। এতে ক্ষতিকারক কার্বন নিঃসরণ হবে না বললেই চলে, যার ফলে বায়ুদূষণ রোধে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। জিন্দ থেকে সোনিপত রুটে এই ট্রেন চালুর ফলে একদিকে যেমন যাত্রী পরিষেবার মান বাড়বে, তেমনি পরিবেশ সুরক্ষাতেও নতুন দিশা দেখা যাবে।
প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প:
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জিন্দে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদি উপস্থিত ছিলেন। রেল প্রকল্পের পাশাপাশি হরিয়ানার সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় ১৪,৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, "আজকের এই হাইড্রোজেন ট্রেন কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, বরং এটি বিকশিত ও সবুজ ভারতের অঙ্গীকার।"
পরিবেশ ও উন্নয়নের ভারসাম্য:
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত বর্তমানে উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার এক অনন্য ভারসাম্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। হাইড্রোজেন জ্বালানি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভারতের জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং দেশ আত্মনির্ভরতার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
আগামীর সম্ভাবনা:
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরিয়ানায় সফলভাবে পরীক্ষামূলক এই ট্রেন পরিষেবার পর ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও ধীরে ধীরে হাইড্রোজেন ট্রেনের প্রসার ঘটানো হবে। মূলত গ্রামীণ ও শহরতলির ছোট রুটে যেখানে বৈদ্যুতিকরণ এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, সেখানে এই ট্রেন এক নতুন বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
এই প্রকল্প ঘিরে হরিয়ানার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। পরিবেশ সচেতনতার বার্তা নিয়ে ভারতের এই নতুন যাত্রা বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন রাজনীতিক ও পরিবেশবিদরা।