গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে ভারত সরকারের কোনো বাধা নেই: এফসিসি সভাপতি
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশের ক্ষেত্রে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি)-এর সভাপতি গোবিন্দরাজ এথিরাজ।
সোমবার (৩ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভারতে অবস্থানরত যেকোনো ব্যক্তি দেশটির প্রচলিত আইন মেনে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে বা নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন।
শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়।এফসিসি সভাপতির ভাষ্য, “ভারত সরকার শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। তিনি যদি কোনো গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে চান বা সংবাদ সম্মেলন করতে চান, তবে সেটি সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি মেনেই করা সম্ভব।”
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ
গোবিন্দরাজ এথিরাজ বলেন, ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব সবসময় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে থাকে।
কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য প্রকাশ করা হবে কি না, সেটি মূলত সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের কাজ হলো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। তার সম্ভাব্য বক্তব্য, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভার্চুয়াল বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই এফসিসি সভাপতির এই মন্তব্য বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পৃথক কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। একইভাবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এফসিসি সভাপতির মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার বক্তব্য বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা আগামী দিনের বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।