ভারতে নাগরিকত্বে নতুন কড়াকড়ি, বাংলাদেশিদের জন্য বাধ্যতামূলক পাসপোর্ট তথ্য।
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা | ২০ মে ২০২৬
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে গিয়ে নাগরিকত্বের আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য নতুন শর্ত আরোপ করেছে ভারত সরকার। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের এখন নিজেদের বর্তমান বা পুরোনো পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে জানাতে হবে। এমনকি ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পর সেই পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ‘নাগরিকত্ব বিধিমালা, ২০০৯’-এ এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু ও এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
নতুন বিধিমালায় ‘তফসিল ১সি’-এর আওতায় একটি অতিরিক্ত ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এটি মূলত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের অভিযোগে ভারতে আশ্রয় নেওয়া অমুসলিম সংখ্যালঘুদের জন্য প্রযোজ্য। এর মধ্যে রয়েছেন হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
সংশোধিত নিয়মে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর কাছে বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট আছে কি না, তা হলফনামার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। যদি পাসপোর্ট থাকে, তাহলে তার নম্বর, ইস্যুর তারিখ, কোথা থেকে ইস্যু হয়েছে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখসহ বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে।
এছাড়া আবেদনকারী কখন এবং কোন মাসে ভারতে প্রবেশ করেছেন, সেটিও নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। কোনো তথ্য গোপন বা মিথ্যা প্রমাণিত হলে আবেদন বাতিলের পাশাপাশি নাগরিকত্বও বাতিল করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব অনুমোদনের ১৫ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে তার বর্তমান বা পুরোনো পাসপোর্ট নিকটস্থ ডাক বিভাগের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট বা সুপারিনটেনডেন্ট কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
সিএএ আইন ঘিরে নতুন বিতর্ক
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সিদ্ধান্তের পেছনে ভারতের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।
২০১৯ সালে পাস হওয়া সিএএ আইনের মূল লক্ষ্য ছিল ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া নথিপত্রহীন অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ থেকে আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়।
তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, যাদের জন্য আইনটি করা হয়েছিল— তাদের অনেকের কাছেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র নেই। ফলে নতুন সংশোধিত নিয়মে পাসপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য জমা বাধ্যতামূলক করায় আবেদন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।