দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন: সরকারি সম্পৃক্ততা নেই, জানাল ভারত
By ইনডিপেনডেন্ট ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, ঢাকা | প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া আলোচনার মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারতের সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই এবং এটি সম্পূর্ণভাবে একটি বেসরকারি উদ্যোগ।
মঙ্গলবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেন, বুধবার শেখ হাসিনা যে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন, সেটি একটি বেসরকারি সংস্থার আয়োজন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওই অনুষ্ঠানে যে বক্তব্য উপস্থাপিত হবে, তা ভারত সরকারের অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়।
রনধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, ভারতের সরকার এই আয়োজনের সঙ্গে জড়িত নয় এবং আয়োজক ফোরামের কোনো বক্তব্যকে সরকারি সমর্থন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ঢাকার উদ্বেগ
এর আগে সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন শেখ হাসিনার সম্ভাব্য রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যাতে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়া উচিত নয়, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের বিদ্যমান ইতিবাচক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত প্রকাশ করা হয়।
ভারতের প্রতিক্রিয়া
বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় পর্যায়ে খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপের বিষয়ে ভারত সচেষ্ট থাকবে।
রাজনৈতিক গুরুত্ব
শেখ হাসিনার এই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অনুষ্ঠানটি সরকারি নয় এবং এতে ভারতের আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা অংশগ্রহণ নেই।
ফলে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্যকে ভারত সরকারের নীতিগত অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।