৬ বছর পর ফের চালু ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্য, খুলে দেওয়া হলো নাথুলা ও লিপুলেখ পাস
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০২৬
কোভিড-১৯ মহামারি এবং সীমান্ত উত্তেজনার কারণে টানা ছয় বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে ভারত-চীনের সরাসরি সীমান্ত বাণিজ্য। শনিবার (১ আগস্ট) থেকে পূর্ব সিকিমের নাথুলা পাস এবং উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস দিয়ে ঐতিহাসিক এই বাণিজ্যিক রুট পুনরায় চালু করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ বিরতির পর সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু হওয়া ভারত ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, প্রতিবছর মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ছয় মাস সীমান্ত বাণিজ্য চালু থাকবে। এ সময় সপ্তাহে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পূর্বনির্ধারিত ৩৬টি পণ্যের তালিকার আওতায় এ বাণিজ্য পরিচালিত হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে হস্তশিল্প, তাঁতের পণ্য, কম্বল, কৃষি সরঞ্জাম, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, শুকনো সবজি, মসলা, তৈরি পোশাক ও গৃহস্থালি সামগ্রী রপ্তানি করা হবে। অন্যদিকে চীনের তিব্বত অঞ্চল থেকে তৈরি পোশাক, জুতা, ইয়াকের চামড়াজাত পণ্য, মাখন, ছাগল এবং লেপ আমদানি করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অতীতে প্রায় ৪০০ ব্যবসায়ীকে বাণিজ্যিক পারমিট দেওয়া হলেও নিরাপত্তা যাচাই শেষে আপাতত ৫৮টি পারমিট অনুমোদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের ছাড়পত্র পাওয়ার পর এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্ত চেকপোস্টগুলো ভারত ও চীনের যৌথ উদ্যোগে সংস্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য পরিচালনার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি) মোতায়েন করেছে ভারত। পাশাপাশি বাণিজ্য কার্যক্রমে সহায়তার জন্য প্রথমবারের মতো নারী আইটিবিপি সদস্যদেরও সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর সীমান্ত বাণিজ্য পথটি টানা ৪৪ বছর বন্ধ ছিল। ২০০৬ সালে নাথুলা পাস পুনরায় চালু হলেও ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারি এবং সীমান্ত উত্তেজনার জেরে আবারও বাণিজ্য স্থগিত করা হয়। প্রায় ছয় বছর পর পুনরায় চালু হওয়ায় সীমান্ত অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চারের আশা করা হচ্ছে।