অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি: প্রতিদিন গড়ে ১০ খুন, রাজনৈতিক নেতারাই বেশি টার্গেট
By বিশেষ প্রতিবেদক, বেঙ্গল টাইমসঢাকা: ২৪ জুন ২০২৬ |
দেশে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও বিস্তার আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে এই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রধান নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দেশে অবৈধ অস্ত্রের অবাধ ব্যবহারের কারণে প্রতিদিন গড়ে ১০ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার ও মামলা দায়েরের চিত্র থেকে এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।
তিন মাসে ৯১৫টি হত্যা মামলা
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পুলিশি নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিগত মাত্র তিন মাসেই সারা দেশে ৯১৫টি হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের হয়েছে।
এসব হত্যাকাণ্ডের একটি বড় অংশের পেছনেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের সরাসরি ব্যবহার রয়েছে। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্যেই অপরাধীরা এসব অস্ত্র ব্যবহার করছে,
যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
টার্গেটে রাজনৈতিক নেতারাবিশ্লেষণে দেখা গেছে, অবৈধ অস্ত্রধারীদের মূল লক্ষ্য বা টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতারা।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা, এলাকায় একক আধিপত্য বজায় রাখা কিংবা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা চরম
হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পৌনে দুই মাসে ১৫৩ অস্ত্র উদ্ধারঅবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপরতা চালালেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করছেন অনেকে।
গত পৌনে দুই মাসের বিশেষ অভিযানে সারা দেশ থেকে মাত্র ১৫৩টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে আধুনিক পিস্তল, রিভলবার ও দেশীয় তৈরি পাইপগান।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সীমান্ত পথ দিয়ে কীভাবে এবং কাদের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রের চালান দেশে প্রবেশ করছে, তা গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শক্তভাবে দমন করতে হবে। অন্যথায়, এই অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি ও লাশের মিছিল কোনোভাবেই থামানো যাবে না।