হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published মে ১৬, ২০২৬

"আমি মহাসমুদ্র দেখিনি, আমি শেখ হাসিনাকে দেখেছি...."

By লিসা কালাম- সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক কর্মী

IMG_5759

১৭ মে: এক প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি, আরেক প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু দিন আছে, যেগুলো শুধু ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, বরং জাতির আবেগ, সংগ্রাম আর প্রত্যাশার প্রতীক। ১৭ মে তেমনই একটি দিন। এই দিনটি মনে করিয়ে দেয় দীর্ঘ নির্বাসন শেষে শেখ হাসিনা'র স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কথা। এমন এক প্রত্যাবর্তন, যা শুধু একজন নেত্রীর দেশে ফেরা ছিল না, বরং একটি বিপর্যস্ত রাজনৈতিক ধারার পুনর্জন্মের সূচনা ছিল।

১৯৮১ সালের সেই সময়টায় বাংলাদেশ ছিল অনিশ্চয়তা আর ভয়ভীতির এক অন্ধকার অধ্যায়ে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগ কার্যত নেতৃত্বশূন্য। দেশের রাজনীতি তখন বিভক্ত, দিকহারা। ঠিক সেই সময় বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটানো শেখ হাসিনা নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা না ভেবে ফিরে এসেছিলেন এই বাংলার মাটিতে। লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় সেদিন বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়েছিল এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।

এরপরের পথটা সহজ ছিল না। বারবার হামলা, ষড়যন্ত্র, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, এমনকি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও তিনি থামেননি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন এবং বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন এক পথে নিয়ে যান। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, বিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণ, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, নারীর ক্ষমতায়ন—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এক নতুন আত্মবিশ্বাস খুঁজে পায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করতে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু ইতিহাসের নির্মমতা হলো, সবচেয়ে শক্তিশালী অধ্যায়েরও একসময় কঠিন মোড় আসে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল তেমনই এক দিন। উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংঘাত, সহিংসতা আর অনিশ্চয়তায় দেশ যখন গভীর সংকটে, তখন শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনা পুরো জাতিকে নাড়িয়ে দেয়। দেশকে আরও ভয়াবহ সংঘাত ও সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা করতেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেনাবাহিনীর বিমানে তাঁর ভারত গমন ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির এক নাটকীয় এবং আবেগঘন মুহূর্ত।

এরপর দেশের ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন ড. মোহাম্মদ ইউনুস। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও হতাশা তৈরি হতে থাকে। বাজারের অস্থিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট, রাজনৈতিক বিভাজন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে বিভিন্ন মহলে। যে মানুষগুলো একসময় পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল, তাদের অনেকেই এখন অতীতের স্থিতিশীল সময়কে নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে।

রাজনীতিতে একটি কথা প্রায়ই বলা হয়—মানুষ নেতাকে সবচেয়ে বেশি অনুভব করে তাঁর অনুপস্থিতিতে।

আজ বাংলাদেশের বহু মানুষ সেই অনুভূতির মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। তারা ফিরে তাকাচ্ছে সেই সময়ের দিকে, যখন বড় বড় স্বপ্ন দেখানো হতো, যখন উন্নয়ন ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, যখন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস কাজ করত।

ইতিহাস সাক্ষী, শেখ হাসিনা বারবার প্রতিকূলতা ভেঙে ফিরে এসেছেন। ১৭ মে সেই প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। তাই বাংলার আপামর জনগণ বিশ্বাস করছে মনেপ্রাণে —বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও এক নতুন প্রত্যাবর্তনের অধ্যায় সমাগত। এই প্রত্যাবর্তন কেবল বাংলাদেশ নয় দেখবে সারা বিশ্ব।

সময়ের সব উত্তর দেবে। কিন্তু এটুকু সত্য, এই বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা নামটি শুধু একজন রাজনীতিকের নাম নয়; এটি কোটি মানুষের আশা, আবেগ আর স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস। আর ইতিহাস কখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। কখনও কখনও ইতিহাস শুধু অপেক্ষা করে-আরেকটি প্রত্যাবর্তনের। 

আবার কোনো এক ১৭ মে-তে এক পশলা প্রশান্তির বৃষ্টি হবে, এই বাংলার মানুষ দেখবে তাদের পরিচিত সেই মুখটিকে। যে মুখ একসময় যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়েছিল,যে কণ্ঠ সংকটের সময় মানুষকে সাহস দিয়েছিল,

যে নেতৃত্বকে হারিয়ে আজ অনেকে শূন্যতা অনুভব করছে।ইতিহাসের পথচলা থেমে থাকে না।

আর তাই, বাংলার মানুষ দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করে- শেখ হাসিনা আবারও ফিরবেন।

তিনি ফিরবেন শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, বরং এই বাংলার মানুষের আশার বাতিঘর হয়ে।

জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু ,জয়তু শেখ হাসিনা ।