হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ৩০, ২০২৬

আমি আমেরিকাবিরোধী নই, তবে নতজানুও হব না’—ট্রাম্পের মন্তব্যে কড়া জবাব ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির

By বেঙ্গল টাইমস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

c106f80b-d74f-4e89-8d78-d7ac986bb1f2

ঢাকা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে দেওয়া একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি ছিল, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন।

তবে এই বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে মেলোনি বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নন, কিন্তু কোনো দেশের সামনেই নতজানু হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সম্পর্কের টানাপোড়েনের পটভূমি

একসময় ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে জর্জিয়া মেলোনিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেক অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর কয়েকটি নীতির প্রকাশ্য প্রশংসাও করেছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর ন্যাটো জোটের প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। অন্যদিকে,

মেলোনি ওই সংঘাতের বিষয়ে আরও সংযত ও যুদ্ধবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি মাসের মাঝামাঝি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ হতে পারত। কিন্তু সম্মেলন-পরবর্তী ট্রাম্পের

এক মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।

ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন’—ট্রাম্পের দাবি

ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা ৭-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, জর্জিয়া মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সহানুভূতির বশবর্তী হয়েই তিনি সেই ছবি তুলেছিলেন।

মেলোনির পাল্টা প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে সোমবার ইতালির রেতে ৪ চ্যানেলের 10 Minuti অনুষ্ঠানে জর্জিয়া মেলোনি বলেন,

“আমি আমেরিকাবিরোধী নই। আবার গতকালও আমি কারও সামনে নতজানু ছিলাম না। আমি বিশ্বাস করি,

পশ্চিমা বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ থাকলে আরও শক্তিশালী হয়। তবে দৃঢ় সম্পর্ক সবসময় স্পষ্টবাদিতা ও পারস্পরিক সম্মানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, আর আমি সবসময় স্পষ্ট কথা বলি।”

ট্রাম্পের এই দাবিরও জবাব দেন তিনি যে, নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় তিনি নাকি ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তুলতে আগ্রহী ছিলেন।

মেলোনি বলেন, তাঁর জনপ্রিয়তা কোনো বিদেশি নেতার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং ইতালির জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কারণেই জনগণের সমর্থন পেয়েছেন।

ইতালির কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া, বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতালি সরকার কূটনৈতিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এরই অংশ হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত করেছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।এদিকে কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের পরিবর্তে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ নিজের আগের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে চলেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বাকযুদ্ধ শুধু দুই নেতার ব্যক্তিগত মন্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান ও পারস্পরিক সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতারও প্রতিফলন।