হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published মে ২৬, ২০২৬

ঈদের আগে পল্লবী বস্তিতে আগুন, ছাই হয়ে গেল শত শত ঘর; খোলা আকাশের নিচে হাজারো মানুষের আহাজারি।

By হুমায়ুন কবির | নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমসঢাকা, ২৬ মে ২০২৬

IMG_6277

রাজধানীর মিরপুর পল্লবী  এলাকার একটি বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা— অথচ উৎসবের আনন্দের বদলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর চোখে এখন শুধু হতাশা, কান্না আর অনিশ্চয়তা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল গভীর রাতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো বস্তিজুড়ে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে মুহূর্তের মধ্যেই পুড়ে যায় ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, কোরবানির জন্য জমানো টাকা এমনকি শিশুদের বই-খাতাও। অনেক পরিবার প্রাণ নিয়ে বের হতে পারলেও রক্ষা করতে পারেনি জীবনের সঞ্চয়।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকাবহ পরিবেশ। কোথাও সন্তানকে জড়িয়ে ধরে মায়ের কান্না, কোথাও বৃদ্ধ মানুষের অসহায় আর্তনাদ। কেউ খুঁজছেন নিখোঁজ স্বজনকে, কেউ আবার ছাইয়ের স্তূপে দাঁড়িয়ে খুঁজছেন বেঁচে থাকা কোনো স্মৃতি।

ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে। তাদের দাবি, কয়েকদিন আগেই উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পুলিশ ও বুলডোজার নিয়ে এলাকায় আসা হয়েছিল। সে সময় বস্তিবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার জের ধরেই ভয় দেখাতে বা উচ্ছেদের পথ সহজ করতে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন অনেকে।

এক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা বলেন, “আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ঈদের জন্য যা জমিয়েছিলাম, সব আগুনে পুড়ে গেছে। এখন বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় থাকবো জানি না।”

আরেক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ঘর নেই, কাপড় নেই, খাবার নেই। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছি। এই ঈদ আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে আসলো।”

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বড় অংশ রাস্তার পাশে, খোলা মাঠে কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। অনেকের কাছেই নেই বিশুদ্ধ পানি, খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ কিংবা চিকিৎসা সহায়তা। শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ত্রাণ সহায়তা, পুনর্বাসন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত না করা হলে মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।