মধ্যবিত্তের চাকার উপর আর কত বোঝা চাপানো হবে?
By স্টাফ রিপোর্টার১৭ মে ২০২৬ | ঢাকা
এই শহরের ভোর মানেই শুধু আলো নয়—এটা একেকটা জীবনযুদ্ধের শুরু। হাজারো মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন যখন একসাথে গর্জে ওঠে, তখন সেটা আর শুধু শব্দ থাকে না—এটা হয়ে ওঠে মধ্যবিত্তের চাপা ক্ষোভ, নীরব আর্তনাদ আর প্রতিদিনের বেঁচে থাকার যুদ্ধের ঘোষণা।
এই দেশে দুই চাকার একটি বাইক কখনোই বিলাসিতা ছিল না। কিন্তু আজ এটাকেও যেন বিলাসিতার তালিকায় দাঁড় করানোর প্রস্তুতি চলছে।
কারো কাছে এই বাইক মানে মাস শেষে বেঁচে থাকার হিসাব মেলানো। কারো কাছে এটা অসুস্থ বাবার দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর একমাত্র উপায়। আবার কারো কাছে সারাদিনের ক্লান্তির পর সন্তানের মুখ দেখার শেষ ভরসা।
আর ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই তরুণ? তার চোখে কোনো স্বপ্ন নেই—শুধু একটা ট্রিপের অপেক্ষা। সেই চাকা ঘুরলেই জ্বলবে ঘরের চুলা, আসবে মায়ের ওষুধ, মিটবে বোনের স্কুল ফি।
কিন্তু বাস্তবতা আজ আরও নির্মম।
নিত্যপণ্যের আগুন, আয়-ব্যয়ের অসম যুদ্ধ, আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চাপের ভেতরেই যখন নতুন করে “অগ্রিম আয়কর”-এর বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়—তখন সেটা আর নীতি থাকে না, হয়ে ওঠে সরাসরি মধ্যবিত্তের গলায় আরেকটা ফাঁস।
আজ এনবিআরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বাইকারদের হাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যানার নেই, নেই কোনো ক্ষমতার দাবি। আছে শুধু ক্ষোভ—চোখে আগুন, বুকে চাপা কান্না, আর একটাই প্রশ্ন:
আর কত?
এই মানুষগুলো কোনো রাজপথ দখল করতে আসেনি, তারা এসেছে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে। তারা বলছে—এই দুই চাকা কোনো শৌখিনতা নয়, এটা আমাদের বাঁচার শেষ অবলম্বন।
নীতিনির্ধারকদের কাছে তাদের বার্তা স্পষ্ট এবং কঠিন—
এই চাকার ওপর বোঝা বাড়াতে বাড়াতে একসময় যদি এটাও থেমে যায়, তাহলে থেমে যাবে পুরো এক শ্রেণির জীবন। থেমে যাবে মধ্যবিত্তের নীরব অর্থনীতি, থেমে যাবে শহরের অগণিত ঘরের চুলা।
এটা কোনো আবেগ নয়—এটা বাস্তবতা।
And the reality is simple:
How much more can the middle class endure?