কোমরসমান পানিতে ঘরবাড়ি: সন্তানদের নিয়ে অটোরিকশায় মায়ের আশ্রয়
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক | বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
টানা কয়েক দিনের মুষলধারে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার জনজীবন এখন স্থবির। ডুবে গেছে বসতবাড়ি, সড়ক ও পুকুর। এমন চরম বিপর্যয়ে গৃহহীন হয়ে বাঁচার তাগিদে দুই সন্তানকে নিয়ে সড়কের ওপর রাখা অটোরিকশাকেই অস্থায়ী ঠিকানা বানিয়েছেন তসলিমা আক্তার নামে এক মা।
উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গত বুধবার রাত থেকে সন্তানদের নিয়ে এই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। তসলিমার স্বামী শাহাবুদ্দিন নিজের জীবিকার একমাত্র সম্বল সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ঢলের পানি থেকে বাঁচাতে কালভার্টের ওপর এনে রেখেছিলেন। পরে কোনো উপায় না দেখে তসলিমা তাঁর দুই বছরের শিশুকন্যা ও তেরো বছরের ছেলেকে নিয়ে সেই অটোরিকশাতেই আশ্রয় নেন।
অটোরিকশার আসনেই কাটছে রাত
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, কালভার্টের ওপর রাখা অটোরিকশার ভেতরে সামান্য কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে আছে তসলিমার শিশুকন্যা জান্নাতুল মাওয়া। আর বাইরে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি ও বাতাসের মাঝে মা ও বোনকে পাহারা দিচ্ছে তেরো বছর বয়সী ছেলে বোরহান উদ্দিন।
তসলিমার স্বামী শাহাবুদ্দীন বলেন, “বুধবার রাতে হঠাৎ ঘরের ভিটায় পানি উঠে যায়। চোখের পলকে পানি বাড়তে বাড়তে কোমরসমান হয়ে পড়ে। কোনো উপায় না দেখে আমরা অটোরিকশাতেই আশ্রয় নিই। জানি না আর কত দিন এভাবে খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হবে।”
রাণের সংকট, হাহাকার শুকনো খাবারের
কেবল তসলিমা আক্তারই নন, ওই কালভার্টটিতে আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় আরও বেশ কয়েকটি পরিবার। অনেকে গবাদিপশু ও জরুরি জিনিসপত্র নিয়ে প্লাস্টিকের ত্রিপল টাঙিয়ে দিন পার করছেন। রান্না করার সুযোগ না থাকায় কলা, মুড়ি আর চিড়ার মতো শুকনো খাবারই এখন তাঁদের একমাত্র সম্বল। স্থানীয় বাসিন্দা নজির আহমদ আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের জীবনে এমন কষ্টের দিন আর আসেনি। খাবার আর বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার চলছে। এই কষ্ট কখন শেষ হবে কেউ জানে না।”
পানিবন্দী লাখো মানুষ
থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা ও শীলকূপসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সরকারিভাবে যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে অর্ধেকের বেশি মানুষ এখনো কোনো ধরনের সাহায্য পাননি। চরম খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকটে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।