পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ, রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়।
By স্টাফ রিপোর্টার | বেঙ্গল টাইমস০১ জুন, ২০২৬
দেশের পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি আজ সোমবার (১ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মন্ত্রিত্ব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি ইতোমধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সরকারি ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সমন্বয় সংকট এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের জেরে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তাঁর পদত্যাগের গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছিল। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
যদিও পদত্যাগের বিষয়ে দীপেন দেওয়ানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ব্যক্তিগত কারণের পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও প্রশাসনিক পরিবেশ বিবেচনায় নিয়েই তিনি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই সামগ্রিকভাবে অধিক যুক্তিসঙ্গত ও কার্যকর হবে।
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে কে আসছেন, তা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী খুব শিগগিরই শূন্য পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন। বিকল্প হিসেবে সাময়িকভাবে কোনো জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগ পার্বত্য অঞ্চলের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয়। বিশেষ করে পার্বত্য এলাকায় সরকার ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং নতুন নেতৃত্বের ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে অঞ্চলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।