রাজধানীতে রাজনৈতিক সহিংসতা: কাফরুলে গুলিতে যুবদল কর্মী নিহত, কদমতলীতে বিএনপি নেতা ছুরিকাহত
By বেঙ্গল টাইমস | ঢাকা ব্যুরো, প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬
রাজধানী ঢাকায় পৃথক দুটি সহিংস ঘটনায় একজন যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন এবং বিএনপির দুই নেতাসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে কাফরুলে দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক যুবদল কর্মী নিহত হওয়ার পাশাপাশি থানা যুবদলের সদস্য সচিব গুলিবিদ্ধ হন।
অন্যদিকে একই দিন দুপুরে কদমতলীতে এক স্থানীয় বিএনপি নেতা ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন।পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাফরুল থানার মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকায় শেরে বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় তিন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত।
এ সময় স্থানীয় যুবদল কর্মী ইউসুফ বেপারী (৩২) এবং কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইউসুফ বেপারীকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বুকে গুলি লেগেছিল।
গুলিবিদ্ধ হাফিজুর রহমান বর্তমানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ঘটনার সময় ছিটকে আসা একটি গুলিতে পথচারী মনির হোসেন নামের আরেক ব্যক্তি আহত হন। তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।কাফরুল থানার ডিউটি অফিসার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অস্ত্রধারী এক হামলাকারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এদিকে নিহত ইউসুফ বেপারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কদমতলীতে বিএনপি নেতা ছুরিকাহত
অন্যদিকে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কদমতলীর মাতুয়াইল মেডিকেল রোড এলাকায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা শামসুদ্দিন খান।
আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শামসুদ্দিন খান মাতুয়াইল মাতৃসদন ইউনিট বিএনপির সভাপতি এবং শামীমবাগ পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক।
জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর পেছন থেকে এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করে।
শামসুদ্দিনের ভাই আজিমউদ্দিন খান অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওরফে ‘পেটকাটা শামীম’-এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
রাজধানীতে একই দিনে সংঘটিত এই দুটি সহিংস ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পৃথক দুই ঘটনারই তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।