হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ৩, ২০২৬

বাজারে কাঁচা মরিচে ‘আগুন’, কেজি ৩২০ টাকা ছুঁইছুঁইটানা বৃষ্টিতে উৎপাদন কমে সরবরাহ সংকট, আমদানির অনুমতি দিল সরকার।

By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস

IMG_8601

দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো যশোরের বাজারেও কাঁচা মরিচের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে বর্তমানে মানভেদে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ।

টানা বৃষ্টিতে স্থানীয় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়াকেই এ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

রোববার যশোরের বড়বাজার, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বাজার ও রেলগেট বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচের পাশাপাশি বেগুনসহ বেশিরভাগ সবজির দামও উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা একাধিক ক্রেতা জানান, দুই-তিন দিন আগেও যে কাঁচা মরিচ ২৪০-২৫০ টাকা কেজি ছিল, এখন সেটি ৩০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে এমন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।

সবজি বিক্রেতাদের ভাষ্য, অতিবৃষ্টিতে মরিচক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় স্থানীয় উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যশোরের বাজার এখন অনেকটাই অন্য জেলার সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। বর্ষাকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম বলেও মনে করছেন তারা।

বর্তমানে যশোরের বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি, উচ্ছে ১২০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা এবং কাঁকরোল, করলা, ওল, কচুরলতি ও শসা ৮০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া পটল, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, কচুরমুখী ও লাউ ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচকলা ৪০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ও গাজরের দাম ১২০ টাকা এবং আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েক সপ্তাহের টানা বর্ষণে যশোরসহ আশপাশের জেলার বিস্তীর্ণ সবজি ও মরিচক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য জেলা থেকেও সবজির সরবরাহ কমেছে।

অন্যদিকে, ক্রেতাদের একাংশের অভিযোগ, শুধু উৎপাদন সংকট নয়, বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটও মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী। তারা নিয়মিত বাজার তদারকি এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। তবে খরার পর অতিবৃষ্টিতে অধিকাংশ ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রত্যাশিত উৎপাদন হয়নি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে এমনিতেই মরিচের উৎপাদন কম থাকে। এর আগে দীর্ঘ খরা এবং পরে অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদন আরও ব্যাহত হয়েছে। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারেও কাঁচা মরিচ ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগে কোথাও কোথাও এর দাম ৪০০ টাকাও ছাড়িয়ে যায়। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, সোমবার থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে আমদানির ওপর বিদ্যমান কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দ্রুত আমদানি শুরু হলে আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং কাঁচা মরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে সরকার আশা করছে।