ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ঋণ নিল সরকার, বেড়েছে ৭৭ শতাংশরাজস্ব ঘাটতি, ব্যয় বৃদ্ধি ও সঞ্চয়পত্রে কম অর্থ সংগ্রহের প্রভাব
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, ঢাকা | প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩০ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন ও বর্তমান সরকার।
অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সঞ্চয়পত্র থেকে প্রত্যাশার তুলনায় কম অর্থ সংগ্রহের কারণে সরকারকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয়েছে।
এর ফলে বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রবৃদ্ধি বেড়ে হয়েছে প্রায় ৭৭ শতাংশ। একই সময়ে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশে।
বিপরীতে সরকারের ঋণ প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, যা অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে সরকারি ঋণনির্ভরতার প্রবণতা আরও স্পষ্ট করেছে।
এদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ১৩ দিনেই সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে আরও ৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি ব্যয় বাড়তে থাকায় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও বাড়ছে।
তবে এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, সরকার চায় বেসরকারি খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াক।
এজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার এমন মাত্রায় ব্যাংক ঋণ নেবে না, যাতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ব্যাহত হয়। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল রাখা এবং একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ বজায় রাখা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা এবং বিকল্প উৎস থেকে অর্থায়ন নিশ্চিত করা না গেলে আগামী দিনগুলোতে সরকারের ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে, যা আর্থিক খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।