হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ৬, ২০২৬

বিশ্ববাজারে আরও কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম, আগস্টে উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস

By অর্থনীতি ডেস্ক, বেঙ্গল টাইমস:

004f1d8f-37e3-4272-a58b-af7f665095db

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে আবারও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস (OPEC+) আগামী আগস্ট থেকে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হতে শুরু করায় দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বাজার বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।সর্বশেষ লেনদেন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ২৪ সেন্ট বা প্রায় ০.৩৩ শতাংশ কমে ৭১.৮৮ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ১১ সেন্ট বা ০.১৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬৮.৫৮ ডলারে।

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার বাজার বন্ধ থাকায় সেদিন ডব্লিউটিআইয়ের আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তিমূলক মূল্য প্রকাশ করা হয়নি।এদিকে, রাশিয়াসহ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস রোববার অনুষ্ঠিত বৈঠকে আগামী আগস্ট মাসে দৈনিক তেল

উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্তে একমত হয়েছে। এর আগে জুন ও জুলাই মাসেও একই পরিমাণ উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান আইজি-এর বিশ্লেষক টনি সিকামোরের মতে, ওপেক প্লাসের এই সিদ্ধান্ত বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন দেশের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত কোটার পুরোটা বাস্তবায়ন এখনো সম্ভব হচ্ছে না।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী বিঘ্নিত হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ওই পথ দিয়ে তেল পরিবহন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, জুন মাসে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত দৈনিক তেল উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। দীর্ঘ সময়ের নিম্ন উৎপাদন পরিস্থিতি থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনরুদ্ধার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।অন্যদিকে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে। ফলে পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে জুন মাসে রাশিয়ার তেল রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, জুলাই মাসেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।