হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ১৭, ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনালে জমকালো ‘হাফটাইম শো’: শিক্ষার প্রসারে ১০ কোটি ডলার সংগ্রহের মেগা পরিকল্পনা ফিফার

By বিশেষ প্রতিবেদক, বেঙ্গল টাইমস

85faa86e-f9e5-468a-9ad0-dc6915c74368

ঢাকা: ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। আমেরিকান ‘সুপার বোল’-এর আদলে আগামী বিশ্বকাপের ফাইনালে দেখা যাবে জমকালো ও চোখধাঁধানো ‘হাফটাইম শো’।

তবে এই আয়োজন কেবলই বিনোদনের জন্য নয়; এর পেছনে রয়েছে বিশ্বজুড়ে শিশুদের শিক্ষা ও ফুটবলের সুযোগ সম্প্রসারণে ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) ডলার তহবিল সংগ্রহের একটি মহৎ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য।

ফিফা সূত্রে জানা গেছে, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচের বিরতি সাধারণ সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।

আর এই বর্ধিত বিরতিকেই বিশ্বব্যাপী সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করা হবে।তহবিল গঠনে ফিফা ও গ্লোবাল সিটিজেন-এর যৌথ উদ্যোগএই বিশেষ হাফটাইম শো-টি ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এর একটি অংশ।

চরম দারিদ্র্য বিমোচনে নিবেদিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল সিটিজেন’ এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফিফা’ যৌথভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফাইনাল ম্যাচের শতকোটি দর্শকগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অনুদান ও সমর্থন জোগাড় করাই এর মূল উদ্দেশ্য। সংগৃহীত এই অর্থ বিশ্বজুড়ে ২০০টিরও বেশি দেশে তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

পাশাপাশি এর একটি বড় অংশ ব্যয় হবে ফিফা ও ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘ফুটবল ফর স্কুলস’ কর্মসূচিতে, যা খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের পড়াশোনা ও জীবনমুখী দক্ষতা বিকাশে কাজ করে।

তারকাদের মেলা বসবে মঞ্চেবিশ্বকাপ ফাইনালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে মঞ্চ মাতাবেন বিশ্বখ্যাত তারকাদের এক মেলা।

হাফটাইম শো-তে পারফর্ম করবেন ম্যাডোনা, শাকিরা, বার্না বয়, বিটিএস এবং জাস্টিন বিবার। এর পাশাপাশি থাকছে ‘পিএস ২২ কোরাস’ ও জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘কোল্ডপ্লে’-এর বিশেষ পরিবেশনা।পুরো অনুষ্ঠানটির আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন কোল্ডপ্লে-এর প্রধান শিল্পী ক্রিস মার্টিন।

বিশ্বখ্যাত এই তারকাদের একত্রিত করে এমন এক সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা কোটি কোটি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং সেই মনোযোগকে বাস্তব সামাজিক পদক্ষেপে রূপান্তর করবে।

ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন ধারার সূচনাগ্লোবাল সিটিজেন জানিয়েছে, গত এক দশকে তারা বিনোদন ও জনসচেতনতার সমন্বয় ঘটিয়ে বিশ্বজুড়ে ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি আদায়ে ভূমিকা রেখেছে, যা প্রায় ১০০ কোটিরও বেশি মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি তাদের জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চ হিসেবে হাজির হয়েছে।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফিফার এই উদ্যোগ বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে এক নতুন ধারার সূচনা করতে যাচ্ছে। খেলাধুলা, সঙ্গীত ও সামাজিক আন্দোলনের এই অভূতপূর্ব সমন্বয় যদি সফল হয় এবং ১০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়, তবে এই হাফটাইম শো-এর ইতিবাচক প্রভাব খেলার মাঠ ছাড়িয়ে বিশ্ব মানবতার কল্যাণে দীর্ঘকাল টিকে থাকবে।