হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ২৩, ২০২৬

আর্থিক সংকটে গাজীপুরের পোশাক কারখানা বন্ধ, কর্মহীন ১,৮০০ শ্রমিক

By গাজীপুর প্রতিনিধি | বেঙ্গল টাইমস, গাজীপুর | ২৩ জুন ২০২৬

IMG_7368

আর্থিক সংকট ও ব্যবসায়িক জটিলতার কারণে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় অবস্থিত পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যা এলাকায় উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন থেকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে মালিকপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত জানায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান।

কারখানা বন্ধ হলেও শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট এবং অন্যান্য আইনগত পাওনা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে প্রশাসন ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ২১ জুন গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে শিল্প পুলিশ, শ্রম অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের অবশিষ্ট ১৫ দিনের এবং মে মাসের ১৮ দিনের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব বকেয়া বেতন পরিশোধেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। চাকরি হারানো শ্রমিকদের জন্য নোটিশ-পে হিসেবে ৩০ দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এবং চাকরির প্রতি বছরের জন্য ২০ দিনের মূল বেতনের হারে সার্ভিস বেনিফিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া অর্জিত ছুটির অর্থ, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, চাকরি থেকে অব্যাহতি-সংক্রান্ত সুবিধা এবং বিভিন্ন তহবিলে জমাকৃত অর্থও নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে। আগামী ২৭ জুলাই শ্রমিকদের এসব পাওনা এককালীন পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর একটি অংশ এই সমঝোতা চুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সব প্রাপ্য সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে অনেক শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, ঈদের আগে বেতন-ভাতা ও বোনাস নিয়ে সৃষ্ট সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলেও শেষ পর্যন্ত কারখানা চালু না করে স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত শত শত শ্রমিক হঠাৎ করেই জীবিকা হারিয়েছেন।

কারখানার একাধিক শ্রমিক জানান, তাদের অনেকের পরিবার পুরোপুরি এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ কর্মসংস্থান হারিয়ে তারা এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মালিকপক্ষ কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

তবে শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকল আইনগত পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ প্রশাসন ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেছে।

কারখানা বন্ধের এ ঘটনায় গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মসংস্থান সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাওনা দ্রুত পরিশোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।