হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ২৩, ২০২৬

রক্তস্নাত পথ বেয়ে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা: আওয়ামী লীগের ৭৭ বছর

By শঙ্খচিল

IMG_7334

ছিলো, আছে, আগামীতেও থাকবে জনগণের পাশে, এই স্লোগানটি কেবল কোনো রাজনৈতিক বাক্য নয়, এটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গত পৌনে এক শতাব্দীর পথচলার চিরন্তন সত্য। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন যে দলটির জন্ম হয়েছিল, তা আজ বহু বসন্ত পেরিয়ে এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বাঙালির স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা, আর শূন্য থেকে আজকের সমৃদ্ধি—সবকিছুর পেছনে রয়েছে এই দলটির রক্তলিপি।

১৯৪৯-১৯৭৫: বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ ও একটি মানচিত্রের জন্ম

আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলোর গল্প। ১৯৪৯ সালে যখন দলের জন্ম হয়, বঙ্গবন্ধু তখন কারাবন্দি। তরুণ বয়েসেই তিনি বুঝেছিলেন, বাঙালির মুক্তির জন্য একটি নিজস্ব রাজনৈতিক মঞ্চ প্রয়োজন।

কারাগারই ছিল যার দ্বিতীয় বাড়ি:

১৯৪৯ থেকে ১৯৭১ এই দীর্ঘ ২৪ বছরের পাকিস্তানি শাসনামলে বঙ্গবন্ধু জীবনের প্রায় ৪ হাজার ৬৮২ দিন (১২ বছরেরও বেশি) কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটিয়েছেন। যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো তিনি উৎসর্গ করেছিলেন বাঙালির হাসির জন্য।

৫২ থেকে ৬৬ এর রূপকার:

৫২ এর ভাষা আন্দোলন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্টের বিজয় নিশ্চিত করা এবং ১৯৬৬ সালে বাঙালির ‘ম্যাগনা কার্টা’ খ্যাত ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ—সবখানেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন মূল চালিকাশক্তি।

৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও কারাবরণ:

৭০ এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ী হওয়ার পরও যখন পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি, তখন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের একটি ভাষণই পাল্টে দিয়েছিল ইতিহাস। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ফাঁসির সেল মাথায় নিয়েও তিনি বাঙালির স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি।

১৯৭২-১৯৭৫ (যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন):

স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে শূন্য রাজকোষ, ভাঙা সেতু, আর ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি নিয়ে তিনি দেশ গড়ার কাজে হাত দেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি সংবিধান উপহার দেন এবং ভারতকে দিয়ে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করান। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম বুলেট তাঁর সেই স্বপ্নের সোনার বাংলার গতি সাময়িকভাবে স্তব্ধ করে দেয়।

ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উত্থান:

জননেত্রী শেখ হাসিনা ​১৯৭৫ সালের পর যখন আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার অপচেষ্টা চলছিল, ঠিক তখনই ১৯৮১ সালে নির্বাসন শেষে দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। বাবার শূন্যতা বুকে নিয়ে তিনি শক্ত হাতে ধরেন দলের হাল।

​"সব হারিয়ে যিনি দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের জীবনকে বাজি রেখেছেন, তিনিই জননেত্রী শেখ হাসিনা।"​বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার হিসেবে তিনি গত চার দশকে বাংলাদেশকে যা দিয়েছেন, তা আজ বিশ্বমঞ্চে বিস্ময়।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূরীকরণ: দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী 

আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা এবং যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন তিনি।

অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত অলৌকিকতা:

একসময়ের মঙ্গা-পীড়িত, খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশকে আজ তিনি খাদ্য-উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করেছেন। বিশ্বব্যাংককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

মেগা প্রকল্পের রূপকার: মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং এলএনজি টার্মিনালের মতো প্রকল্পগুলো আজ শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী চিন্তার ফসল।

ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ: বাংলাদেশকে সফলভাবে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'এ রূপান্তরের পর তাঁর বর্তমান লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তি নির্ভর 'স্মার্ট বাংলাদেশ' গড়ে তোলা।​আওয়ামী লীগের চিরন্তন অঙ্গীকার: জনগণের পাশে

বঙ্গবন্ধু বলতেন, "আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আমি দেশের মানুষকে ভালোবাসি, আর আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আমি তাদেরকে খুব বেশি ভালোবাসি।" বাবার সেই আদর্শকে ধারণ করেই শেখ হাসিনা আজ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছেন।

দুর্যোগে দুর্বিপাকে, সুসময়ে কিংবা দুঃসময়ে

আওয়ামী লীগ কখনো মাঠ ছেড়ে পালায়নি।

১৯৪৯ সালের সেই তরুণ শেখ মুজিব থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার

শেখ হাসিনা—নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু

জনগণের পাশে থাকার সেই আদি ও আসল

অঙ্গীকারটি রয়ে গেছে অপরিবর্তিত।​আজকের এই স্মরণীয় দিনে ইতিহাসের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। জন্মদিনে শুভেচ্ছা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ! জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।