পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত
By স্ঙ্গস্টাফ রিপোর্টার, বেঙ্গল টাইমস
ঢাকা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গ্লোবাল হেলথ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অনুবিভাগের উদ্যোগে ‘অসংক্রামক রোগ (নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস-এনসিডি) প্রতিরোধ’ বিষয়ে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১ ও ২ জুলাই ২০২৬ অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব (জনকূটনীতি এবং অন্যান্য অগ্রাধিকার বিষয়সমূহ) এ. কে. এম. শহীদুল করিম।এতে অতিথি বক্তা হিসেবে অংশ নেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব স্বাস্থ্য অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি এবং যুগ্ম সচিব মো. মামুনুর রশীদ। কর্মশালার মূল প্রবন্ধ ও প্রশিক্ষণ মডিউল উপস্থাপন করেন বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কান্ট্রি অফিসের ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. ফারযানা ডরিন।
দুই দিনের কর্মশালার প্রথম দিনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক, মহাপরিচালক ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধবিষয়ক প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়।
দ্বিতীয় দিনে সহকারী সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য একই বিষয়ে পৃথক প্রশিক্ষণ সেশন অনুষ্ঠিত হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মানসিক স্বাস্থ্য, শারীরিক সুস্থতা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।তিনি বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এখন আর শুধু একটি জাতীয় বিষয় নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ।
এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন উদ্যোগে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ ধরনের স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।অতিথি বক্তা শেখ মোমেনা মনি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধসংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিষয়ক যৌথ ঘোষণাপত্রের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। যুগ্ম সচিব মো. মামুনুর রশীদ সরকারের অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের প্রতিনিধি ডা. ফারযানা ডরিন তার উপস্থাপনায় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, কার্যকর প্রতিরোধ কৌশল এবং সর্বোত্তম অনুশীলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা লাভ করেন।