হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ২৪, ২০২৬

চট্টগ্রামে মাছের ঘাটে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগে জেলেদের সড়ক অবরোধ, রাস্তায় মাছ ফেলে বিক্ষোভ

By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, চট্টগ্রাম | ২৪ জুন ২০২৬

IMG_7394

চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মাছের ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে চলা কথিত অবৈধ চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন জেলেরা। বুধবার দুপুরে শতাধিক জেলে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সড়কে নেমে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে তারা রাস্তায় মাছ ফেলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও মাইক নিয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচিতে নারী জেলেদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই অভিযোগ করেন, মাছ ধরা, ঘাটে মাছ নামানো এবং বিক্রির প্রতিটি ধাপে বিভিন্ন নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে, যা তাদের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলেছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জেলেরা দাবি করেন, নদী ও উপকূলীয় এলাকার ঘাটগুলোতে ‘খাস কালেকশন’, ‘ঘাট ফি’ এবং বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক খাতের নামে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে মাছ ধরার খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় জেলেরা আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়ছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শুধু মাছ নয়, অনেক এলাকায় নৌকা, জাল, বরফ, গ্যাস সিলিন্ডার, দোকানপাট এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপরও বিভিন্ন ধরনের চাঁদা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক জেলে বলেন, “দিনরাত নদীতে পরিশ্রম করে মাছ ধরি। কিন্তু ঘাটে পৌঁছানোর পর নানা অজুহাতে টাকা দিতে হয়।

এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পক্ষে পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।”

আরেক নারী বিক্ষোভকারী বলেন, “আমাদের পরিবার মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল।

প্রতিদিন নতুন নতুন খাতে টাকা দাবি করা হচ্ছে। আমরা এর অবসান চাই।”

ছবিতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ নারী। তারা ব্যানার হাতে সড়কে দাঁড়িয়ে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ব্যানারে মৎস্যজীবীদের সম্পদের ওপর অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যায়।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

মৎস্যজীবী নেতাদের ভাষ্য, উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো মৎস্য খাত। তাই জেলেদের হয়রানি ও অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধ করে তাদের নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

বিক্ষোভ শেষে জেলেরা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন

এবং মাছের ঘাটগুলোতে কথিত অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।