হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ১৯, ২০২৬

খুলনায় কিশোরী কন্যাকে হত্যার ১০ দিন পর গ্রেপ্তার বাবা, রাস্তায় বস্তাবন্দি মরদেহ ফেলে পালিয়েছিলেন

By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক

IMG_8314

খুলনা নগরের নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের বাবা আলিম হোসেন ওরফে আকাশকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ দল।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকেই আলিম হোসেনকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছিল। আত্মগোপনে থেকে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় তিনি এতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যান।

শনিবার ডুমুরিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে সদর থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং রোববার আদালতে হাজির করা হবে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এর আগে নিহত কিশোরীর মা আরিফা ইয়াসমিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বাবাকে গ্রেপ্তারের অভিযান আরও জোরদার করা হয়।পুলিশ জানায়, আরফানা হোসেন নির্জনা সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন।

সম্প্রতি তিনি নিজের পছন্দে বিয়ে করেছিলেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনলেও তিনি পুনরায় সেখানে ফিরে যেতে চাইতেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে বিরোধ চলছিল।তদন্তে উঠে এসেছে, গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় একই বিষয় নিয়ে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে প্রথমে মা তাকে মারধর করেন।

পরে বাবা কাঠের একটি ফালি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।হত্যাকাণ্ডের পর প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে কিশোরীর মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যান আলিম হোসেন।

প্রথমে পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় সদর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে আরফানার মা মরদেহ শনাক্ত করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করলে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।