হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published মে ৫, ২০২৬

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চরম বিপর্যয়: হামের প্রকোপে দিশেহারা দেশ, দায় কার?

By নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

1e45a8f9-1451-4c7b-ad10-0e1d3e5f7201

সারা দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রকোপে প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ড সংখ্যক ১৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে চলতি বছরে মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে গেল। হাসপাতালগুলোর শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই; প্রতিটি শয্যায় তিন-চারজন করে শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে, আর শত শত পরিবার তাদের আদরের সন্তানকে হারিয়ে আহাজারি করছে।

চরম অব্যবস্থাপনার মাশুল দিচ্ছে শিশুরা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মানবিক বিপর্যয়ের মূল কারণ সময়মতো টিকাদান কর্মসূচির ব্যর্থতা এবং সরকারি উদাসীনতা। বর্তমানে দেশের ৫৮টি জেলায় এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে প্রায় ২ কোটি শিশু চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ।

অতীতের সাফল্য: যে জায়গা থেকে পতন

এখানেই প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশ কি আগে কখনও এমন ছিল?

বিগত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (EPI) ছিল আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। নিয়মিত হাম-রুবেলা টিকাদান, দরজায় দরজায় ক্যাম্পেইন, এবং ব্যাপক জনসচেতনতার ফলে বাংলাদেশ একসময় হামের প্রকোপ প্রায় নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিল।

এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে শেখ হাসিনা-কে “Vaccine Hero” হিসেবে সম্মাননা দেয় GAVI, the Vaccine Alliance। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত সম্মাননা নয়, বরং বাংলাদেশের টিকাদান ব্যবস্থার একটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি ছিল।

জনমনে ক্ষোভ: আঙুল উঠছে সরকারের দিকে

দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সরাসরি বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও জনস্বাস্থ্যের মতো মৌলিক বিষয়ে চরম অবহেলা প্রদর্শন করেছে।

বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের দাবি:

  • • ভ্যাকসিন সংকট: গত কয়েক মাস ধরে সারা দেশে হাম-রুবেলা ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট থাকলেও সরকার তা আমদানিতে ব্যর্থ হয়েছে।
  • কর্মসূচি বিঘ্নিত: রাজনৈতিক পরিবর্তনের অস্থিরতায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়েছে, যার ফলে হাজার হাজার শিশু টিকার আওতা থেকে বাদ পড়েছে।
  • সমন্বয়ের অভাব: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি সাড়াদান কার্যক্রম অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞ মতামত

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মৃত শিশুদের অধিকাংশই টিকা না পাওয়া অথবা অপুষ্টির শিকার। সঠিক সময়ে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল বিতরণ না করাও এই মৃত্যুর হার বাড়ার অন্যতম কারণ। সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুবই নগণ্য।

সন্তান হারানো বাবা-মায়ের কান্না আর সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই "প্রশাসনিক ব্যর্থতা" দেশ এক বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সময় থাকতে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।