হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ২৭, ২০২৬

রেকর্ড তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ, ৪১ ডিগ্রি ছাড়াল জার্মানির তাপমাত্রা

By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, ব্রাসেলস | ২৭ জুন ২০২৬

IMG_7564

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ জনজীবন, পরিবহন এবং জ্বালানি খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। ফ্রান্স ও ইতালির বিভিন্ন শহরেও চরম গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রবীণ, শিশু এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

তীব্র তাপদাহের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় রেললাইন প্রসারিত হওয়ার আশঙ্কায় কিছু রুটে ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে। এতে হাজারো যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জ্বালানি খাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও সীমিত করা হয়েছে, কারণ শীতলীকরণ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত ঠান্ডা পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের ফলে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং হৃদ্‌রোগজনিত জটিলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের ধারণা, আগামী কয়েক দিন ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকার জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর উদ্যোগ আরও জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।