১০ গোলের মহারণে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় ইংল্যান্ড, মেসির বিশ্বরেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন এমবাপ্পে
By খেলা ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস
মায়ামি: শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে পড়ার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই ‘সান্ত্বনার লড়াই’ বলে থাকেন। ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স—উভয় দলের কোচই বলেছিলেন, “এই ম্যাচ কেউ খেলতে চায় না।”
কিন্তু মাঠে নেমে দুই দল যে ফুটবল উপহার দিল, তা বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
১০ গোলের এই মহারণে যেমন ছিল রোমাঞ্চ, তেমনি ছিল একের পর এক ঐতিহাসিক রেকর্ড।ইংল্যান্ডের হয়ে বুকায়ো সাকা করেন দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক। অন্যদিকে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
প্রথমার্ধেই ইংল্যান্ডের ঝড়
সেমিফাইনালের হতাশা ভুলে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড।
দুই কোচই একাদশে সাতটি করে পরিবর্তন আনেন। ম্যাচের ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে বক্সের বাইরে থেকে ডেক্লান রাইসের দুর্দান্ত শটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
১৮ মিনিটে এজরি কনসার হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।এরপর পুরো মঞ্চ দখল করেন বুকায়ো সাকা। ৩৭ ও ৪৫+১ মিনিটে জোড়া গোল করে বিরতির আগেই ইংল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা, এমবাপ্পের ইতিহাস
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় ফ্রান্স।৪৮ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে তাঁর নবম গোল, যা তাঁকে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে একক শীর্ষে তুলে দেয়।৫৪ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-২।
এরপর আসে ম্যাচের সবচেয়ে ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
৬৬ মিনিটে আবারও ওলিসের পাস থেকে গোল করেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২২, যা তাঁকে লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসায়।
ওলিস ও সাকার নতুন কীর্তি
এমবাপ্পের দুই গোলেই অ্যাসিস্ট করে মাইকেল ওলিস এক বিশ্বকাপে সাতটি অ্যাসিস্টের নতুন রেকর্ড গড়েন।
এর আগে ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের ছয় অ্যাসিস্ট ছিল সর্বোচ্চ।অন্যদিকে ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা।
১৯৫৮ সালের পর তিনিই প্রথম ফুটবলার, যিনি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করলেন।
কাকতালীয়ভাবে, ১৯৫৮ সালে সেই কীর্তি গড়েছিলেন ফুটবল সম্রাট পেলে।
শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা ও দেশমের বিদায়
নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়েও থামেনি গোলের উৎসব।
ফ্রান্সের হয়ে ওসমান দেম্বেলে এবং ইংল্যান্ডের হয়ে জুড বেলিংহাম গোল করলে চূড়ান্ত স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৬-৪।
শেষ বাঁশি বাজতেই গত ছয় দশকের মধ্যে বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য—তৃতীয় স্থান—উদযাপনে মেতে ওঠে ইংল্যান্ড।
অন্যদিকে এই পরাজয়ের মধ্য দিয়েই ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
ম্যাচে গড়া উল্লেখযোগ্য রেকর্ড
- * ১০ গোলের এই ম্যাচটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ।
- * এটি এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল হওয়া তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।
- * ১৯৫৮ সালে ফ্রান্স ৬-৩ গোলে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে যে রেকর্ড গড়েছিল, এবার সেই ফ্রান্সই ৬ গোল হজম করল।
- * কিলিয়ান এমবাপ্পে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়লেন।
- * মাইকেল ওলিস এক আসরে সর্বোচ্চ সাতটি অ্যাসিস্টের নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন।
- * বুকায়ো সাকা ১৯৫৮ সালের পর ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা প্রথম ফুটবলার।
ব্রোঞ্জ পদক জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসছে ইংল্যান্ড। তবে ফুটবল বিশ্বের দৃষ্টি এখন ফাইনালের দিকে, যেখানে নতুন রেকর্ডধারী কিলিয়ান এমবাপ্পের কীর্তিকে স্পর্শ বা ছাড়িয়ে যাওয়ার শেষ সুযোগ থাকবে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সামনে।