মার্কিন তুলায় বোনা পোশাকে 'শুল্কমুক্ত' আমেরিকা: অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের আভাস।
By স্টাফ রিপোর্টার, বেঙ্গল টাইমস, ঢাকা, ১৮ জুন, ২০২৬
গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (ART) দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সুফল হিসেবে আমেরিকার উৎপাদিত তুলা (US Cotton) দিয়ে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক মার্কিন বাজারে সম্পূর্ণ 'শূন্য শুল্ক' বা ডিউটি-ফ্রি সুবিধায় প্রবেশের অধিকার পাচ্ছে।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের এক প্রশ্নের জবাবে এই আশাবাদের কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিটি দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
পোশাক খাতে নতুন সমীকরণ ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাদীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত মার্কিন বাজারে চড়া শুল্ক দিয়ে প্রতিযোগিতা করে আসছিল। নতুন এই 'এআরটি' (ART) চুক্তির আওতায় মার্কিন তুলা বা ম্যানমেড ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ওপর থেকে সব ধরনের ট্যারিফ বা শুল্ক প্রত্যাহার করে নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ফলে একদিকে যেমন দেশের তৈরি পোশাকের উৎপাদন খরচ কমবে, অন্যদিকে মার্কিন ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশি পোশাকের আকর্ষণ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন:"এই চুক্তিটি কেবল তৈরি পোশাকের রপ্তানিই বাড়াবে না, বরং বাংলাদেশে বড় ধরনের বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণ করতে এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।"
অর্থনৈতিক কূটনীতিতে বহুমুখীকরণচলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণা দেশের ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি এনে দিয়েছে। মন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের এই সময়ে বর্তমান সরকার 'অর্থনৈতিক কূটনীতিকে' সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
আমেরিকা ও ইউরোপের মতো প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা,
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার মতো উদীয়মান বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উপস্থিতি জোরদার করা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে 'সিইপিএ' (CEPA) বা ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির আলোচনা শুরু হয়েছে।
মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পাদনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
- পাশাপাশি, ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু এবং মালয়েশিয়ায় আম রপ্তানির মতো নতুন কৃষি-বাজারও উন্মুক্ত হয়েছে।
- চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবায়ন
- বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন তুলা আমদানির শর্তের সঠিক বাস্তবায়ন এবং দেশের স্পিনিং ও টেক্সটাইল মিলগুলোর সাথে তৈরি পোশাক খাতের সমন্বয় সাধনই এখন মূল কাজ।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা),
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই চুক্তির সর্বোচ্চ সুফল ঘরে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত এই বাণিজ্য চুক্তিটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে যাওয়া বাংলাদেশের
অর্থনীতিতে এক নতুন লাইফলাইন হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।