হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ২৯, ২০২৬

ছয় দিন পর কারামুক্ত ‘গরিবের ডাক্তার’ ডা. সামির হোসেন মিশু

By বেঙ্গল টাইমস প্রতিনিধি, বগুড়া | ২৯ জুন, ২০২৬

IMG_7650

বগুড়ায় ছয় দিন কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত চিকিৎসক ডা. সামির হোসেন মিশু। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বগুড়া জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী তানজীম আল মিজবাহ।

এর আগে রোববার বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ কৌসিক আহমেদ-এর আদালতে তার জামিন আবেদন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার সকালে আদালত জামিন মঞ্জুর করলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারামুক্ত হন।

জানা গেছে, গত ২৩ জুন রাতে শেরপুর উপজেলার রনবীরবালা ঘাটপাড় এলাকায় অবস্থিত একটি বিনোদন কেন্দ্রে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরদিন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জামিন শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী তানজীম আল মিজবাহ আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, ডা. মিশু ২০১৬ সাল থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং তিনি কখনো বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেননি। ফলে বাদীর চিকিৎসায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তথ্যগতভাবে সঠিক নয়। আদালত এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন পিপি আবদুল বাছেদ।

ডা. সামির হোসেন মিশু বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার বাসিন্দা এবং প্রয়াত চিকিৎসক ডা. সাফদার হোসেন-এর ছেলে। তিনি বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের বগুড়া শাখার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাগেরহাটে সরকারি ম্যাটসের ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

স্থানীয়ভাবে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে বগুড়া থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুলাই আন্দোলন ঘিরে দায়ের করা একটি মামলায় ডা. মিশুকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর বগুড়া সদর থানায় দায়ের করেন শহরের নাটাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আরাফ। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭২ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৪৭২ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বগুড়া শহরের বড়গোলা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিলে হামলা ও গুলির ঘটনায় আহত হওয়ার পর বাদী

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে ডা. সামির হোসেন মিশু তাকে চিকিৎসাসেবা নিতে বাধা দেন।

তবে জামিন শুনানিতে আসামিপক্ষ দাবি করে, অভিযোগে উল্লিখিত সময়ে ডা. মিশু ওই হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন না এবং অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি নেই। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তাকে জামিন প্রদান করেন।