বাংলাদেশে নতুন ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি আইএমএফ ঋণ চাওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু।
By হুমায়ূন কবির | স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা, ২৬ মে ২০২৬
ঢাকা : বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন করে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঋণ সহায়তা চেয়েছে বলে জানা গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা, অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইএমএফের সঙ্গে ইতোমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার আশা করছে, এই নতুন ঋণ প্যাকেজ অনুমোদন পেলে ডলার বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও স্থিতিশীল হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের চাপ এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক সহায়তার দিকে সরকারের নির্ভরতা আরও বাড়ছে।
এর আগে আইএমএফের পূর্ববর্তী ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে জ্বালানি মূল্য সমন্বয়, রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের মতো একাধিক শর্ত বাস্তবায়ন করতে হয়েছিল। নতুন ঋণ অনুমোদিত হলে সেখানে আরও কঠোর শর্ত যুক্ত হতে পারে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি কোনো সংকটের ইঙ্গিত নয়; বরং অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও সহনশীল করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধারাবাহিক অংশ।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিরোধীরা মনে করছেন, ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ঋণ ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তারা অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ঋণ নির্ভরতা নয়—রপ্তানি বহুমুখীকরণ, উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি হতে পারে।