১২ ঘণ্টার প্রতিশ্রুতি ভেস্তে গেল, ঈদের পরও ঢাকার রাস্তায় কোরবানির বর্জ্যের স্তূপ।
By স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা, ২৯ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের আশ্বাস দিয়েছিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১২ ঘণ্টার মধ্যে সব বর্জ্য সরানোর কথা থাকলেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও শুক্রবার সকালে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে পশু কোরবানির উচ্ছিষ্ট অংশ ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য।
শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও রাস্তাজুড়ে পশুর নাড়িভুঁড়ি, খুর, শিং ও চামড়ার অংশ ছড়িয়ে আছে, আবার কোথাও জমে আছে রক্তাক্ত বর্জ্যের স্তূপ। কিছু এলাকায় দুর্গন্ধে পথচারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
ঈদের দিন দুপুর থেকেই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করে দুই সিটি করপোরেশন। ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালাম ঘোষণা দিয়েছিলেন, কাজ শুরু হওয়ার আট ঘণ্টার মধ্যেই বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হবে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছিলেন, সরকার নির্ধারিত সময়সীমার আগেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ করা হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটির অন্তত ১৮টি এবং দক্ষিণ সিটির ১১টি এলাকায় তখনো কোরবানির বর্জ্য পড়ে রয়েছে। অনেক স্থানে পশুর খাদ্যের খড়-ভুসি, মাংস কাটার চাটাই ও অন্যান্য উচ্ছিষ্ট অংশও পরিষ্কার করা হয়নি।
উত্তর সিটির যেসব এলাকায় বর্জ্য দেখা গেছে তার মধ্যে রয়েছে মিরপুর, সেনপাড়া, শাহজাদপুর, গুলশান ও বনানীর বিভিন্ন সড়ক। একইভাবে দক্ষিণ সিটির ধানমন্ডি, জিগাতলা, হাজারীবাগ, চকবাজার, বকশীবাজার ও নাজিরাবাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায়ও একই চিত্র দেখা যায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রশাসক দাবি করেছিলেন, দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭১টি পুরোপুরি বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে। বাকি চারটি ওয়ার্ডেও প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে পরদিন সকালে যেসব এলাকায় বর্জ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোর কয়েকটিকে আগের রাতেই শতভাগ পরিষ্কার বলে দাবি করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ঘোষণার পরও কেন সময়মতো
কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।