হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ৩০, ২০২৬

জুলাই আন্দোলন নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগ: ঢাবিতে দুই শিক্ষককে অব্যাহতি, তদন্তে আরও অনেকে

By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক

IMG_8522

ঢাকা: জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কটূক্তি ও আন্দোলনবিরোধী অবস্থানের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুই শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আরও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (২৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অব্যাহতি পাওয়া দুই শিক্ষক হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুল মুহিত এবং ঔষধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ।

সিন্ডিকেট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এবং আন্দোলনের বিরোধী অবস্থান গ্রহণের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরি এস এ ইসলাম বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগে আরও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ-সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠার পর বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে কোনো শিক্ষক জড়িত ছিলেন কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

সভা সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ছাড়া ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব নিয়োগ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।

একই সঙ্গে ওই সময়ে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে পরিচালিত হেকেপ (HEQEP) প্রকল্পের আওতায় সম্পন্ন গবেষণা কার্যক্রমের আর্থিক ও প্রশাসনিক দিকও পর্যালোচনা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, এসব সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।