ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের অন্তর্ভুক্ত ৪ টি থানা এবং ২৩ টি ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক নেতা কারাগারে
By নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের আওতাধীন ৪টি থানা ও ২৩টি ওয়ার্ডে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
ঘোষিত কমিটিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ঘোষিত কমিটি অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক করা হয় অধ্যক্ষ এম এ আউয়ালকে এবং সদস্য সচিব করা হয় তারেকুজ্জামান রাজীবকে।
শেরেবাংলা নগর থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান ফোরকান হোসেন এবং সদস্য সচিব হন ইফতেখারুল আলম হিরক।আদাবর থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক করা হয় আলহাজ্ব আবুল হাসেম হাসুকে এবং সদস্য সচিব করা হয় আরিফুর রহমান তুহিনকে।
অন্যদিকে, কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান জামাল মোস্তফা এবং সদস্য সচিব করা হয় আলহাজ্ব মইজ উদ্দিনকে।
দলীয় সূত্রের দাবি, নবগঠিত এসব কমিটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোকে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করছেন।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।
পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় সংসদে আইন পাস করে সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে বলে দলটির নেতারা দাবি করেন।
আওয়ামী লীগের অভিযোগ, সরকারের এই পদক্ষেপের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে হামলা, গ্রেপ্তার এবং অসংখ্য মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে। দলটির দাবি, এসব মামলার বড় একটি অংশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এদিকে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের দাবি, এর ফলে দেশের একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যায় এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক নেতৃত্বের একটি অংশ কারাগারে থাকলেও দলীয় নেতাকর্মীরা সংগঠনকে পুনর্গঠন ও তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।