হাসনাতের অনুসারীদের বিরুদ্ধে দিনমজুরকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, টাকা লুটের দাবি; মামলা না নেওয়ার অভিযোগও
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক প্রকাশ: ২৯ জুন, ২০২৬
দেবীদ্বার: কুমিল্লার দেবীদ্বারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক দিনমজুরের ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এবং চিকিৎসার জন্য রাখা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিএনপির শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীকে সমর্থন করার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগের তীর উঠেছে এনসিপির নেতা-কর্মীদের দিকে, যাদের স্থানীয়ভাবে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুসারী বলে দাবি করেছে পরিবার।
কালের কণ্ঠের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ উঠে এসেছে।
হামলার শিকার দিনমজুর মহিউদ্দিন জানান, নির্বাচনের দিন তিনি নিজের এক আত্মীয়ের কাছে ট্রাক প্রতীকে ভোট চান। এ সময় এনসিপির সমর্থকদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনের পরদিন রাতে স্থানীয় বাজারে আল-আমিনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান।
মহিউদ্দিনের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে মারধরের পাশাপাশি তার সন্তানের চিকিৎসার জন্য রাখা ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী হ্যাপি বেগম বলেন, তার স্বামীকে বিএনপির রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়।
“১৫–২০ জনের মতো ছিল। কয়েকজন মিলে আমার স্বামীকে ঘিরে নির্মমভাবে মারধর করেছে। তিনি বারবার বলেছেন, ‘ভাই, আমি কিছু করি নাই’, কিন্তু কেউ কথা শোনেনি।
আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা বিএনপির রাজনীতি সহ্য করতে না পারার কথাও প্রকাশ্যে বলেছে।
মহিউদ্দিনের বড় ভাই অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। বরং পুলিশ তাদের ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না’ বলে সতর্ক করে দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরে হামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেন মহিউদ্দিনের বাবা মনু মিয়া। তবে সেখানেও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, হামলাকারীরা নিজেদের এনসিপির লোক পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে এবং হাসনাত আবদুল্লাহর নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আল-আমিন মোল্লা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কারা মারধর করেছে তা তিনি জানেন না এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়েও তার কোনো জানা নেই।
অন্যদিকে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে অবগত নন। তার দাবি, এ ঘটনায় থানায় কেউ মামলা করতে আসেনি বলেই তার মনে পড়ে।
ঘটনাটি নিয়ে এখনো কোনো মামলা হয়েছে কি না,
তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।