হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ১৮, ২০২৬

এনবিআর সার্ভারে সাইবার হানা: নেপাল পালানোর সময় বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার চক্রের সদস্য

By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬

IMG_8287

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সার্ভারে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে বড় ধরনের শুল্ক ফাঁকির চেষ্টার ঘটনায় শেখ সেজান নামে এক কুখ্যাত জালিয়াত চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার নেপালে পালানোর সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।

শুক্রবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রতারণার ধরণ ও কৌশল:

পুলিশ জানায়, শেখ সেজান একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য। এই চক্রটি চীন থেকে বন্ডের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় ফেব্রিক্স আমদানির মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ ও ৫০ লাখ সিগারেট আমদানির চেষ্টা করেছিল। এই চালান খালাসের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত কোষাগারের প্রায় ১০-১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ২০২৪ সালের ২০ মে একটি মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে কাস্টমসের এক কর্মকর্তার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এনবিআর সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশ করা হয়। পরে সেই আইডি ব্যবহার করেই বিদেশি সিগারেট আমদানির ঋণপত্র (এলসি) নিবন্ধন ও খালাসের প্রক্রিয়া চালানো হয়।

সাইবার অপরাধের বিশাল নেটওয়ার্ক:

কেবল শুল্ক ফাঁকি নয়, সেজানের বিরুদ্ধে সরকারি ওয়েবসাইট ক্লোনিং, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ জালিয়াতি, জন্মনিবন্ধন ও টিকা সনদ জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

সেজান ও তার চক্র সরকারি ওয়েবসাইটের অনুরূপ নকল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে সাধারণ মানুষের তথ্য হাতিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত।অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, গ্রেপ্তারকৃত সেজানের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার অপরাধ ও প্রতারণা সংক্রান্ত অন্তত সাতটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর আগেও ডিএমপি’র সিটিটিসি এবং সিএমপি তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করেছিল।

মামলার বর্তমান অবস্থা:

এনবিআর সার্ভারে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের ঘটনায় সিএমপির বন্দর থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ পর্যন্ত এই মামলায় হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান খালেদ হোসেন মামুন, পরিচালক বাকির হোসেনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তের স্বার্থে সেজানসহ অন্য অভিযুক্তদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।পুলিশের এই কর্মকর্তা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাইবার জগতের এই অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।