জন্ম ও মৃত্যু সনদের ডিজিটাইজেশনে জালিয়াতি রুখতে আরজিআই-এর কড়া নির্দেশ
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬
দেশের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিল রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (RGI)। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ভুয়া ও অননুমোদিত ডিজিটাল সনদ ইস্যু হওয়ার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে, এই জালিয়াতি ঠেকাতে সব রাজ্যের নিবন্ধন ইউনিটগুলোকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে আরজিআই।
কেন এই সতর্কতা?
আরজিআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের (CRS) তথ্যভাণ্ডারে কিছু এলাকায় নিবন্ধনের সংখ্যায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। ভুয়া সনদ ইস্যুর এই প্রবণতা কেবল সরকারি তথ্যব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করছে না, বরং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
কী কী পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে?
জালিয়াতি রোধে আরজিআই নিবন্ধন ইউনিটগুলোকে বেশ কিছু বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে:
নিবিড় যাচাইকরণ: পুরনো জন্ম ও মৃত্যু সনদ ডিজিটাইজ করার সময় সেগুলোকে অবশ্যই মূল রেজিস্টার বা নথির সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করতে হবে।
প্রমাণক আপলোড: আবেদনের সময় আবেদনকারীর সনদ এবং মূল রেজিস্টারের সংশ্লিষ্ট পাতার অনুলিপি আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা: ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও সত্যতা নিশ্চিত করতে সব পর্যায়ের নিবন্ধন কার্যালয়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনি কঠোরতার পথে কেন্দ্র:
সূত্র মারফত জানা গেছে, আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০২৩-এর সংশোধনী বিল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর মাধ্যমে বিলম্বিত নিবন্ধনের প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৬ জুলাইয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বছরের বেশি সময় ধরে জন্ম-মৃত্যুর তথ্য জানানো হলে তা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া আরও জটিল ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদনের আওতাভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আরজিআই-এর এই কঠোর অবস্থানের ফলে এখন থেকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করার সুযোগ অনেকাংশেই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।