১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড চৌধুরী মঈনুদ্দীন লন্ডনে এনসিপি নেতার অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, লন্ডন/ঢাকা
লন্ডনে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের সামনের সারিতে বসে আছেন চৌধুরী মঈনুদ্দীন নামে পরিচিত এক ব্যক্তি। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, চৌধুরী মঈনুদ্দীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত ব্যক্তি। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুদ্ধিজীবী হত্যার মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। তবে তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে চৌধুরী মঈনুদ্দীন তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সংঘটিত বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় তার ভূমিকা ছিল।
লন্ডনের সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও যুদ্ধাপরাধের বিচারপন্থী ব্যক্তিরা বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, অনুষ্ঠান আয়োজক বা এনসিপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে চৌধুরী মঈনুদ্দীনের উপস্থিতি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, কিংবা অনুষ্ঠানে তার ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং জাতীয় ইতিহাসের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো বাংলাদেশে এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যু। ফলে এ ধরনের কোনো ঘটনা বা অভিযোগ জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করাই স্বাভাবিক।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। কেউ কেউ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, আবার অন্যরা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।