উত্তরপ্রদেশকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ: ২০২৯-এর লড়াইয়ে বিজেপিকে চাপে ফেলতে নতুন কৌশলে কংগ্রেস
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, নয়াদিল্লি | ২৭ জুন ২০২৬
ভারতের পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের এখনও প্রায় আড়াই বছর বাকি থাকলেও, রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মাঠে নেমেছে। বিশেষ করে ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং বিরোধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসসহ বিরোধী জোটের মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন শুধু একটি রাজ্যের সরকার গঠনের লড়াই নয়; বরং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভারতের লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৮০টি আসনই উত্তরপ্রদেশ থেকে আসে, যা একে দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক রাজ্যে পরিণত করেছে।
বিজেপির সামনে কঠিন পরীক্ষা
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে প্রত্যাশার তুলনায় কম আসন পাওয়ার পর এবার রাজ্যে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-এর নেতৃত্বে দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো রাজ্যের ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে।
তবে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে সরকারকে জনঅসন্তোষ ও বিরোধীদের সমালোচনারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ক্ষমতাবিরোধী মনোভাব (Anti-incumbency) নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিরোধী জোটের নতুন পরিকল্পনা
অন্যদিকে কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি (এসপি) উত্তরপ্রদেশে সমন্বিত কৌশলে এগোতে চাইছে। বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি, সামাজিক ইস্যু এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রশ্নকে সামনে এনে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে বিরোধী শিবির।
বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেস আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো এবং বিভিন্ন রাজ্যে আলাদা কৌশল গ্রহণের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
নারী সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাসে বিজেপির গুরুত্ব
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে নারী সংরক্ষণ আইন এবং সম্ভাব্য লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation)-কে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখছে।
জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে উত্তর ও মধ্য ভারতের কয়েকটি রাজ্যে আসনসংখ্যা বাড়তে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্য উদ্বেগও প্রকাশ করেছে।
কংগ্রেসের কৌশলগত অগ্রাধিকার
বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষণে কংগ্রেসের সম্ভাব্য কৌশল হিসেবে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ ভারতে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা, উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতে জোটভিত্তিক নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির
প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা।
ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক আক্রমণাত্মক প্রচারণা কখনও কখনও উল্টো রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে। তাঁদের মতে, বিরোধী নেতাদের ঘিরে অতিরিক্ত প্রচার বা
সমালোচনা সংশ্লিষ্ট নেতাদের জাতীয় রাজনীতিতে আরও বেশি দৃশ্যমান করে তুলতে পারে।
আগামী দিনের রাজনৈতিক চিত্র
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আগামী আড়াই বছরে ভারতের রাজনৈতিক
প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হতে পারে। উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন, বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সম্ভাব্য জোট রাজনীতি—সব মিলিয়ে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ভারতীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়লে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও আইনগত সংস্কার বাস্তবায়নও আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।