বিমানের টিকিটের নামে প্রতারণার অভিযোগ: ফ্ল্যাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক
ঢাকা: অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট (FEBD)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সংস্থাটির দাবি, কয়েক শত গ্রাহক ও সাব-এজেন্টের কাছ থেকে বিমান টিকিটের জন্য অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করলেও অনেক ক্ষেত্রে টিকিট সরবরাহ করা হয়নি এবং পরবর্তীতে ওই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তর করে এর উৎস ও প্রকৃতি গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রাজধানীর মতিঝিল থানায় ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর ৪(২) ও ৪(৪) ধারায় সাতজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন— সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, প্রেসিডেন্ট, আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, পরিচালক, এ কে এম শাহদাত হোসেন, পরিচালক, আব্দুল গণি মেহেদী, পরিচালক, মো. সাকীব হোসেন, হেড অব ফাইন্যান্স এবং মোতাহের হোসেন, সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী।
সিআইডির অনুসন্ধান অনুযায়ী, ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট ২০১৬ সালে অনলাইনে বিমান টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে। পরে প্রতিষ্ঠানটি হোটেল বুকিং, হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ট্রাভেল সেবা চালু করে। ২০১৯ সালে FEBD নামে যৌথমূলধনী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট এবং FEBD—উভয় নামে ব্যবসা ও ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) এবং বিজনেস-টু-কনজ্যুমার (B2C)—উভয় মডেলে বিমান টিকিট বিক্রি করত। বিভিন্ন সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়ে দেশের বিভিন্ন সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত টিকিট সরবরাহ করা হয়নি।
সিআইডির দাবি, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম ১ আগস্ট ২০২৫ সালে দেশত্যাগ করেন। এরপরও কোম্পানির কয়েকজন পরিচালক ও অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, FEBD-এর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ পরবর্তীতে ফ্ল্যাইট এক্সপার্টের অন্যান্য ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া ওই অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে হস্তান্তর, উত্তোলন এবং রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ সম্পদের উৎস, মালিকানা ও প্রকৃতি গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সিআইডি আরও জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন IATA অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বিমান টিকিট সংগ্রহ করলেও বহু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ অর্থ গ্রহণের পরও টিকিট সরবরাহ করা হয়নি। কিছু ঘটনায় একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
সংস্থাটির প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, প্রতারণার মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করে মানিলন্ডারিং সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত তাদের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট পরিচালনা করবে। তদন্তের স্বার্থে আর্থিক লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব এবং অভিযুক্তদের সম্পদ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।