জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজে চীনা রাষ্ট্রদূতের বক্তৃতা: বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার
By নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গল টাইমস:
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজে (ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ-এনডিসি) এক বিশেষ বক্তৃতা প্রদান করেছেন।
এনডিসির আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানসহ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শতাধিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তৃতায় রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। এ সফরে দুই দেশ চীন-বাংলাদেশ সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারিত্ব (Comprehensive Strategic Cooperative Partnership) আরও উন্নীত করে নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায় গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে।তিনি বলেন, চীন সবসময় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সুপ্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি অনুসরণ করে এসেছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়েছে।
বাংলাদেশ যাতে আরও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে, সে লক্ষ্যে সামরিক খাতসহ দেশের সব স্তরের সঙ্গে বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদারে চীন আগ্রহী।
চীনা রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, চীন স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। একইভাবে দেশটির প্রতিরক্ষা নীতিও শান্তির প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকারের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ কিংবা প্রভাব বলয় তৈরির নীতি চীনের নীতিতে স্থান পায় না।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে, বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে, সমতা ও শৃঙ্খলাভিত্তিক বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা এবং সবার জন্য উপকারী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি তিনি চীনের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (GDI), গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ (GSI), গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ (GCI) এবং গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ (GGI)-এর লক্ষ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মানবজাতির জন্য অভিন্ন ভবিষ্যতের একটি বৈশ্বিক সম্প্রদায় গড়ে তুলতে চীন কাজ করে যাচ্ছে।
বক্তৃতা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় করেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, চীন-ভারত সম্পর্ক, ব্রিকস জোট এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।