হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ১২, ২০২৬

বগুড়ার সান্তাহারে শিশুকে হত্যা করে বস্তায় লাশ লুকানো, দম্পতিসহ আটক ৩

By স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা ১২ জুন  ২০২৬ 

841785a5-a8cc-4822-854f-bde6e7a8688d

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে ছয় বছরের এক শিশুকে সোনার দুল ছিনিয়ে নিতে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর ঘটনাটি গোপন করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরের মেঝেতে লুকিয়ে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে পুলিশ ওই শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে।

নিহত শিশু রাখা মনি (৬) পৌর শহরের সাহেবপাড়া এলাকার অটোভ্যান গ্যারেজকর্মী আবু রায়হানের মেয়ে। স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসার নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে। পারিবারিক কারণে মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দাদির সঙ্গেই তার বসবাস ছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় রাখা মনি। পথিমধ্যে প্রতিবেশী আমজাদ হোসেনের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তাকে কৌশলে ঘরের ভেতরে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির কানে থাকা সোনার দুল নেওয়ার পর গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়।

সন্ধ্যার পরও রাখা মনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। এলাকাজুড়ে মাইকিং করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রাত প্রায় ৯টার দিকে এক স্থানীয় কিশোর আমজাদের বাড়ির ভেতরে একটি সন্দেহজনক বস্তা দেখতে পেয়ে বিষয়টি অন্যদের জানায়। পরে সেখানে রাখা মনির মরদেহ পাওয়া যায়।

ঘটনার খবর মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়ি ঘেরাও করে। এ সময় আমজাদ ও তার স্ত্রীকে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। উত্তেজিত জনতা তাদের বাড়িঘরেও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। তারা হলেন সাহেবপাড়ার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন (৪০), তার স্ত্রী বন্যা বেগম (৩০) এবং প্রতিবেশী মো. বাবু (৩৮)। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও এক নারীকে থানায় নেওয়া হয়েছে।

শিশুটির বাবা আবু রায়হান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এক জোড়া সোনার দুলের জন্য আমার নিষ্পাপ মেয়েটাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে সোনার দুল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।