হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ২৮, ২০২৬

ঘরের নগদ অর্থ ব্যাংকে আনতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব বিএনপি এমপি খোকনের

By জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, ঢাকা | ২৮ জুন ২০২৬

IMG_7589

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট, নগদ অর্থের প্রবাহ এবং অর্থপাচার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

তিনি দাবি করেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এখন ঘরে ঘরে জমে আছে। সেই অর্থ আবার ব্যাংকিং খাতে ফিরিয়ে আনতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব দেন তিনি।

রোববার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে নোয়াখালী-১ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, সরকার যদি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এসব বড় মূল্যমানের নোট ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে মানুষ তাদের নগদ অর্থ ব্যাংকে আনতে বাধ্য হবে।

যেসব অর্থ আয়কর নথিতে নেই, সেগুলো নির্ধারিত হারে কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ রাখা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

খোকনের ভাষ্য, এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে ব্যাংকিং খাতে তারল্য বৃদ্ধি পাবে, একই সঙ্গে সরকারের বাজেট ঘাটতি পূরণেও উল্লেখযোগ্য সহায়তা মিলতে পারে।

তাঁর দাবি, এতে কয়েক লাখ কোটি টাকার অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ অর্থনীতিতে ফিরে আসবে এবং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল হবে।

ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তাঁর মতে, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অর্থপাচার বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে। অতীতে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার নানা আলোচনা হলেও বাস্তবে তেমন কোনো সাফল্য আসেনি। মানুষের কাছে অর্থ নিরাপদ মনে হলে সেই অর্থ দেশেই থাকবে—এ মন্তব্য করে তিনি দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা ও থাইল্যান্ডের উদাহরণ তুলে ধরে খোকন বলেন, শুধু আইন থাকাই যথেষ্ট নয়; এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ দেশের ভেতরেই বিনিয়োগ ও অর্থ সংরক্ষণকে নিরাপদ মনে করবে।বাজেট বাস্তবায়নের পথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বেকারত্বকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।তবে প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘাটতির বাজেট হিসেবে উল্লেখ করলেও এটিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করেন না বিএনপির এই সংসদ সদস্য। তাঁর মতে, বিশ্বের অনেক দেশেই ঘাটতির বাজেট প্রণয়ন করা হয় এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। তিনি বলেন, কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে এবং দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।