নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, মাদকসেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার অভিযোগ
By স্টাফ রিপোর্টার | বেঙ্গল টাইমস
নোয়াখালী: নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় মো. ফারুক ওরফে শহীদ (৫০) নামে এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, মাদকসেবনের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করে গণপিটুনির পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাত প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজারসংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফারুক উপজেলার মধ্য সুন্দলপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারের একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আটক দুই যুবক হলেন মধ্য সুন্দলপুর গ্রামের আল আমিনের ছেলে মো. আরশাদ আকাশ (২৪) এবং দুলাল মিয়ার ছেলে মো. সাজ্জাদ হোসেন আকাশ (১৯)।
নিহতের বড় ছেলে মো. ইমরান হোসেন জানান, আরশাদ আকাশ এলাকায় মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। মঙ্গলবার রাতে তেঁতুলতলা বাজারের একটি দোকানে মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে তাঁর বাবা ফারুকের সঙ্গে আরশাদ আকাশের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে ফারুক তাঁকে দোকান থেকে বের করে দেন।পরিবারের অভিযোগ, এর জেরে বুধবার সকালে আরশাদ আকাশ কয়েকজনের কাছে ফারুককে হত্যার হুমকি দেন।
পরে রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ফারুকের পথরোধ করে তাঁর পিঠে ও মেরুদণ্ডের কাছে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত দুই যুবককে
আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বেঙ্গল টাইমসকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকসেবনের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।পুলিশ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।