হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ২, ২০২৬

মিয়ানমারের সংঘাতের প্রভাব: রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির নজরদারি জোরদার

By কক্সবাজার প্রতিনিধি | বেঙ্গল টাইমস

IMG_7734

টেকনাফ, কক্সবাজার: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিমান হামলার ঘটনার পর সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও সীমান্তপথে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) টেকনাফ-২ বিজিবির উদ্যোগে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ টহল পরিচালনা করা হয়। লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানের নেতৃত্বে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকায় স্থল টহল জোরদারের পাশাপাশি নাফ নদীতে নৌ টহলও বৃদ্ধি করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, টেকনাফ সদর থেকে শাহপরীর দ্বীপ এবং হ্নীলা পর্যন্ত পুরো সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।

এর আগে বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার পর মিয়ানমারের মংডু ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফা বিমান হামলার বিস্ফোরণের শব্দ টেকনাফ সীমান্ত পর্যন্ত শোনা যায়।

বৃহস্পতিবার সকালেও আবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বাসিন্দা প্রথমে ভূমিকম্প হয়েছে বলে ধারণা করে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্তের ওপারে সংঘটিত বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি জানান, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলম জানান, বুধবার রাতে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

বৃহস্পতিবার সকালেও আরেকটি বিস্ফোরণের পর সীমান্তের ওপারে আগুনের শিখা দেখা যায়। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তার শঙ্কায় অনেক জেলে নাফ নদীতে মাছ ধরতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।

এদিকে, একটি রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আজম উল্লাহ দাবি করেন, বুথিডং এলাকার একটি অবস্থান লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে।

এতে কয়েকটি রোহিঙ্গা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, চলমান হামলার কারণে সীমান্তসংলগ্ন এলাকার অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত না করার আহ্বান জানান।তিনি আরও জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিমান ও স্থল হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র সংঘর্ষ চলতে থাকায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।